মার্কেটে ক্রেতার ঢল

তরুণদের পছন্দ পাঞ্জাবি, তরুণীদের গাউন

জাহেদুল কবির | বৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ, ২০২৬ at ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ

ঈদের বাকি আছে আর ৮৯ দিনের মতো। সময় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে মার্কেটগুলোতে দেখা যাচ্ছে ক্রেতার ঢল নেমেছে। পোশাকের দোকান ছাড়াও জুতা ও কসমেটিকসজুয়েলারিতে দোকানগুলোতে ঢুঁ মারছেন ক্রেতারা। দিনের বেলায় বেচাবিক্রি মোটামুটি থাকলেও ইফতারের পর থেকে শুরু হয় আসল ভিড়। সব বয়সী নারী পুরুষ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেনাকাটা করতে আসছেন। মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, এবারের ঈদে কটন, সিল্ক, এন্ডি সিল্ক, হাফ সিল্ক, মসলিন কাপড়ে হাতের কাজ, মেশিন এমব্রয়ডারির থ্রি পিস এবং ব্লক প্রিন্টের শাড়ির চাহিদাই বেশি। এছাড়া তরুণদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে টিশার্ট, পলো টিশার্ট, ক্যাজুয়্যাল টিশার্ট, ফরমাল টিশার্ট, শাট, ফতুয়া ও বাহারি রঙের পাঞ্জাবি। তবে উঠতি তরুণীদের একটি বিরাট অংশ গাউন এবং ফ্রক কেনার দিকে ঝুঁকছেন। অন্যদিকে মধ্যবয়সী নারীদের এক নম্বর পছন্দ রকমারি ডিজাইনের শাড়ি।

নগরীর চকবাজারের মতি টাওয়ার, চক ভিউ সুপার মার্কেট, গুলজার টাওয়ার, ২ নম্বর গেট শপিং কমপ্লেক্স, মিমি সুপার মার্কেট, ফিনলে স্কয়ার, আফমি প্লাজা, কনকর্ড মুইন স্কয়ার, ফিনলে সাউথ সিটি, সেন্ট্রাল প্লাজা, ইউনেস্কো সিটি সেন্টার, আমিন সেন্টার, ভিআইপি টাওয়ার, মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটি, বালি আর্কেড, স্যানমার ওস্যান সিটি, টেরিবাজার, নিউ মার্কেট, রেয়াজুদ্দিন বাজার, জহুর হকার্স মার্কেট, আখতারুজ্জামান সেন্টার, সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেটসহ একাধিক মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে তরুণীরা পছন্দের জামা কাপড় খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছেন। এছাড়া পাঞ্জাবির শো রুমগুলোতে তরুণদের প্রচুর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

আগ্রাবাদ থেকে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিনার উদ্দিন বলেন, ঈদের সময় ঘনিয়ে আসছে। তাই পাঞ্জাবি কিনতে এসেছি। ঈদের আগ মুহূর্তে ভালো পাঞ্জাবির কালেকশন পাওয় যায় না। এবারের পাঞ্জাবির ডিজাইন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি ইউনিক। তবে বিক্রেতারা দামও বেশি হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। মেরিডিয়ান কোহিনূর সিটিতে আসা তরুণী নুসরাত জাহান ঊর্মি বলেন, এ বছর ঈদের প্রায় প্রতিটি পোশাকে দাম বাড়তি। একটি গাউন পছন্দ করেছি, কিন্তু বিক্রেতারা আকাশচুম্বি দাম চেয়ে বসে আছে।

অন্যদিকে আফমি প্লাজার অঞ্জন, সৃষ্টি, বাংলার মেলা, দেশী দশ, দেশাল, রঙ, সাদা কালো এবং শৈল্পিকের শো রুম দুপুর থকে ক্রেতাদের আনাগোনায় মুখর। এসব শো রুমের বিক্রেতারা জানান, ইতোমধ্যে জমতে শুরু করেছে ঈদ বাজার। বরাবরের মতোই তরুণদের প্রথম পছন্দের শীর্ষে রয়েছে পাঞ্জাবি। বিভিন্ন কালার ও ডিজাইনের প্রচুর পাঞ্জাবিও এসেছে বাজারে।

অপরদিকে নগরীর জহুর হকার্স মার্কেটের বিক্রেতাদের দম ফেলার ফুসরত নেই। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতারা বিভিন্ন দোকানে ভিড় করছেন। জহুর মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ফজলুল আমিন দৈনিক আজদাীকে বলেন, হকার্স মার্কেটে মূলত মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রেতারাই বেশি আসেন। কম দামে ভালো পণ্য পাওয়া যায় তাই ক্রেতারা আমাদের মার্কেটে কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন

রেয়াজউদ্দিন বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. ছালামত আলী বলেন, ইফতারের পর থেকে মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ১৫ রমজানের পর থেকে ক্রেতা সমাগম বাড়ছে। ঈদের কেনাকাটার জন্য রেয়াজউদ্দিন বাজারে আলাদা ঐতিহ্য রয়েছে। এখানে সব ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। তাই ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি আমরা।

তামাকুমণ্ডি লেইন বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, মার্কেটে এখন জমজমাট বেচাবিক্রি হচ্ছে। আমাদের মার্কেটে দেশীয় পণ্যের পাশাপাশি বিদেশী উন্নত মানের পণ্যও পাওয়া যায়, তাই এখানে সব ধরনের ক্রেতাদের ভিড় থাকে।

টেরি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান বলেন, টেরি বাজারে বিক্রেতাদের এখন দম ফেলার ফুসরত নেই। ঈদের সময় ঘনিয়ে আসছে। তাই ক্রেতা সমাগম আগের চেয়ে বাড়ছে। প্রতিদিন ইফতারের পর টেরি বাজারে ক্রেতার ঢল নামা শুরু হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাটহাজারীতে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ যুবক গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধদেশি কাপড় বিদেশি বলে বিক্রি ও দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ কসমেটিকস