বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেটে দেশের ব্যবসায়ীদের তরফে যেসব কর ছাড়ের সুবিধা চাওয়া হচ্ছে, বর্তমানের ‘কঠিন সময়ে’ তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে যেসব আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও আমলাতান্ত্রিক বাধা রয়েছে এবং যেসব কারণে খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেসব বাধা দ্রুতই ‘সরিয়ে দেওয়ার’ আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের–এনবিআর ৪৬তম পরামর্শক কমিটির সভায় বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন। ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই সভার আয়োজনে যুক্ত ছিল। খবর বিডিনিউজের।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কথাটা শুনতে আপনাদের ভালো লাগবে না হয়ত। এই কঠিন সময়ে আমরা ট্যাক্সের ব্যাপারে আপনাদেরকে সুযোগ–সুবিধাগুলো দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও, অনেক সুযোগ–সুবিধা দিতে হয়ত পারব না। কিন্তু আপনাদের ব্যবসা–বাণিজ্যের যে খরচ, যেখানে যেখানে আপনারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন আপনারা বলেন, আমরা সেগুলো সরিয়ে দেব।’
এ সময় এক ব্যবসায়ী প্রতিনিধি বন্দরের শুল্ক ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগ তুললে উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘বন্দরে কোন হিসেবে তারা এই ৪০ শতাংশ (শুল্ক) ওখানে হ্যান্ডলিং কস্টের ওপর বাড়িয়েছে? কোনো কারণ নেই এটার। এইরকম চট্টগ্রাম এবং অন্যান্য বন্দরে যে দুর্নীতি হয়, বন্দরে যে ব্যবসা খরচ যায়, আপনি এটাকে তুলে ধরুন, আমরা এগুলোর সমাধান দ্রুত আপনাদেরকে দিচ্ছি।’
ব্যবসার ‘বাধাগুলো’ সরকারকে জানানো হলে তা তিন মাসের মধ্যে সমাধান হবে বলে মন্ত্রী আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায় কোথায় কোথায় আপনারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন, বলেন। একেবারে আমি বলছি, আমরা সরাসরি আগামী তিন মাসের মধ্যে সমাধান দেব। সুতরাং ট্যাক্সের ব্যাপারে আপনাদের অনুরোধ করছি, আমরা চেষ্টা করব। কিন্তু ট্যাক্সের ব্যাপারে যে খুব বেশি কিছু করতে পারব, আমি সেই কথাটা আজকে ওয়াদা করতে পারব না।’
বর্তমান সরকার যে অবস্থায় অর্থনীতি পেয়েছে এবং এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অর্থনীতির এখন যে অবস্থা, সেখান থেকে উত্তরণে দুই বছর সময় ‘কুশন’ হিসেবে লাগবে বলেও অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য। তিনি বলেন, ‘আমি আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংকসহ সব মাল্টিল্যাটারাল বডিকে বলেছি, আমাদের দুই বছরের কুশন লাগবে। এবং এই দুই বছর পরে তৃতীয় বছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ।’ এ সময় তিনি তৈরি পোশাক খাতের মত করে সব রপ্তানি সম্ভাবনাময় খাতে করছাড়ের সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আমির খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত দারুণ সফল হলেও স্বর্ণ বা হীরা শিল্পের মত অন্যান্য খাতগুলো পিছিয়ে রয়েছে। এখন থেকে যে কোনো সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত যদি প্রস্তাব দেয়, তবে তাদের গার্মেন্টস শিল্পের সমান সুবিধা দেওয়া হবে। চুরির ভয়ে আমরা খাতগুলো আটকে রাখব না। চুরির সমাধান আলাদাভাবে হবে, কিন্তু ব্যবসার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।’
আগামী অর্থবছরে বড় বাজেট দেওয়া হবে ইঙ্গিত দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অবকাঠামো খাতে গুণগত বিনিয়োগে জোর দেওয়া হবে। তবে অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্পের পরিবর্তে গুরুত্ব দেওয়া হবে কার্যকর ও ফলপ্রসূ বিনিয়োগে।’ এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।













