প্রিয় বন্ধুরা, তোমরা নিশ্চয় জানো আমাদের দেশের প্রতিটি গ্রামের কেউ না কেউ বিদেশে চাকরি করেন। যাঁদের আমরা প্রবাসী বলি। কায়িক শ্রম বা মেধা খাটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে নিজ দেশে প্রেরণ করেন। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বেড়ে যায় এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেই বাংলাদেশিরা বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন। বিদেশে বাংলাদেশিদের কাজ করার প্রচুর ক্ষেত্র আছে। যে যার যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কাজে যোগদান করেন। একেক দেশে একেক রকম শ্রম বাজার রয়েছে। এশিয়া ছাড়াও আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়াতে অধিকসংখ্যক বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় যেমন: প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিক্ষক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী কিংবা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।
ভৌগোলিক বিচারে মধ্যপ্রাচ্যে অর্থাৎ ইরাক, ইরান, সৌদি আরব, ইয়েমেন, ওমান, সিরিয়া, জর্ডান ইত্যাদি দেশে আমাদের দেশের লোক বেশি। একমাত্র সত্য, সকলের সম্মিলিত পরিশ্রম আমাদের একটি সুন্দর পৃথিবী। তাই কোনো পেশাকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সকল পেশার মানুষকে যথাযথ সম্মান দেয়া আমাদের একান্ত কর্তব্য।
তোমরা এ–ও জানো, তোমাদের আত্মীয়–স্বজন বা পরিচিতদের মধ্যে অনেকে কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান প্রভৃতি দেশে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন। বাসার কাজ থেকে শুরু করে গাড়ি চালনা, কলকারখানা, রাস্তাঘাট, মেরামত, ব্যবসা–বাণিজ্যসহ সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর অধিকসংখ্যক লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। একথা বললে বাড়িয়ে বলা হবে না যে, এর বেশির ভাগই বাংলাদেশি। মজার ব্যাপার হলো এ ক্ষেত্রে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ জনগোষ্ঠীর কদর একটু বেশি। তবে মাধ্যমিক স্তর উত্তীর্ণ প্রার্থীদের শিক্ষা ও দক্ষতা উভয় আছে বলে এসব দেশের চাকরির ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, জনশক্তি রপ্তানি ব্যুরোসহ সরকার অনুমোদিত বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর বাজার চাহিদা বিবেচনা করে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং রপ্তানি ব্যুরো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিদেশে জনশক্তি নিয়োগের বিষয়টি প্রচার করে থাকে। তবে আমাদের দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় পরিচিত জন বা আত্মীয় স্বজনরা বিদেশের শ্রমবাজার যাচাই করে ভিসার ব্যবস্থা করে থাকেন। এতে প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। বিভিন্ন পত্র–পত্রিকা ছাড়াও অনলাইনে সার্চ করেও বিদেশে চাকরি খুঁজে নেওয়া যায়। ন্যূনতম শিক্ষা ছাড়া বিদেশ যাওয়া ঠিক না। ভাষাও রপ্ত করতে হবে সমান গুরুত্বে। নয়তো পদে পদে হোঁচট খেতে হবে। অবশ্যই তোমরা যারা বিদেশে যেতে চাও তারা ইংরেজি, আরবি, চীনা, কোরিয়ান, জাপানি, ফ্রেঞ্চ ভাষা রপ্ত করতে পারলে অনেক বেশি সফলতার সাথে কাজ করতে পারবে। ও হ্যাঁ, কারিগরি শিক্ষা অর্জন তোমার বিশেষ দক্ষতা হিসেবে দেখা হবে। এদিকেও খেয়াল রাখতে হবে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে যাতে প্রতারিত না হও। তাই সরকারি সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ করে সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।
আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়াতেও প্রচুরসংখ্যক বাংলাদেশি কাজে নিয়োজিত আছেন। তবে এদের বেশির ভাগই কম্পিউটার প্রকৌশল বিদ্যা, চিকিৎসক, শিক্ষক, নার্সিং পেশায় কাজ করছেন। আমাদের প্রতিবেশী দেশ যদিও এসব পেশায় বেশ পারদর্শীতার সাথে কাজ করছে। বাংলাদেশিরা এখন আর পিছিয়ে নেই। হোটেল ম্যানেজমেন্ট, রন্ধন শিল্পের উন্নত দেশগুলোতে বেশ কদর রয়েছে। তোমরা যারা এ সব ক্ষেত্রে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে চাও তা হলে চেষ্টা করতে পারো। তাছাড়া যারা বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন শেষে বাইবের যেকোন দেশ থেকে একটি এক বছর বা ততোধিক সময়ের কোর্স সমাপ্ত করতে পারে তাদের কাজে যোগদানের জন্য সুযোগটা অনেকাংশে বেড়ে যায়। বিদেশে কাজের দক্ষতা অর্জন করে দেশেও মেধাকে কাজে লাগাতে পাবো। এতে ব্যক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও ঘটবে। ব্যবসায় শাখার শিক্ষার্থীদের চাহিদা একটু বেশি নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াতে। এ বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন ও প্রশিক্ষণ শেষে ব্যাংক, বীমা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনে চাকরি পেতে পারো। আরেকটি বিষয় এড়িয়ে গেলে চলবে না তা হলো অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে নরসুন্দর ও শেফ বা রন্ধন শিল্পীদের কদর বেশ চড়া। এ দিকেও দক্ষ হওয়ার চেষ্টা করতে পারো। এক্ষেত্রেও দক্ষতা অর্জনে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। মালয়েশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর বাংলাদেশিদের জন্য অনেকটা সহজপথ চলা। দীর্ঘসময় ধরে আমাদের দেশের বিভিন্ন পেশায় দক্ষ মানুষগুলো ঐসব দেশের নানান কাজের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত রেখেছে, ব্যক্তিগত আর্থিক সফলতার পাশাপাশি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করার পেছনে এদের অবদান কোনো অংশে কম নয়। কোটি কোটি বৈদেশিক মুদ্রায় ভরপুর করছে দেশের রিজার্ভ ফান্ড। এশিয়ার এ দেশগুলোতে বাংলাদেশি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, উচ্চশিক্ষায় গবেষণা করতে গিয়ে কাজে নিয়োজিত হয়ে যান। এসব দেশে শ্রমিকসংখ্যাকও প্রচুর। তবে একটা কথা না বললেই নয়, তা হলো শিক্ষা ও ভাষার গুরুত্ব অনেক বেশি। ন্যূনতম শিক্ষা ছাড়া বিদেশ যাওয়া ঠিক না। ভাষাও রপ্ত করতে হবে সমান গুরুত্বে। নয়তো পদে পদে হোঁচট খেতে হবে। অবশ্যই তোমরা যারা বিদেশে যেতে চাও তারা ইংরেজি, আরবি, চাইনিজ, কোরিয়ান, জাপানী, ফ্রেঞ্চ ভাষা রপ্ত করতে পারলে অনেক বেশি সফলতার সাথে কাজ করতে পারবে। ও হ্যাঁ, ড্রাইভিং, কারিগরি শিক্ষা অর্জন তোমার বিশেষ দক্ষতা হিসেবে দেখা হবে। এদিকেও খেয়াল রাখতে হবে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে যাতে প্রতারিত না হও। তাই সরকারি সংস্থগুলোর সাথে যোগাযোগ করে সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।
নিজেকে সমাজ তথা দেশের বোঝা হিসেবে না ভেবে সম্পদে পরিণত করার জন্য উপরের কথাগুলো তোমাদের পথ নির্দেশ করবে। এতে ব্যক্তিগত সচ্ছলতার পাশাপাশি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করাও সম্ভব হবে। লেখক: শিক্ষা–চিন্তক।











