চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হাম কর্নারে চিকিৎসাধীন ৮ বছর বয়সী ছেলে আবদুর রহমানের জ্বর কমছে না। এ নিয়ে মা রোখসানা বেগমের চিন্তার অন্ত নেই। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৬ মার্চ প্রথমে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয় শিশুটি। সেখানে তার নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। পরে গত রোববার তাকে চমেক হাসপাতালের হাম কর্নারে স্থানান্তর করা হয়। এরমধ্যে রিপোর্টে তার হাম ধরা পড়ে। শিশুটি মা নগরীর বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা রোখসানা বেগম গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ছেলেকে নিয়ে টেনশনে আছি। ছেলের জ্বর এখনো উঠানামা করছে। সে এক ডোজ টিকা নিয়েছে।
এদিকে আগামী রোববার থেকে ৬ মাস থেকে ১০ বছরের শিশুদের জন্য দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। আগে শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ দেয়া হতো। তবে ৯ মাসের কম বয়সীরা হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়ার প্রকোপ বাড়ার কারণে সেটি ৩ মাস এগিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া যারা টিকা নেয়নি এসব শিশুরা টিকা নিতে পারবে। চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল নতুন করে আরো ১৮ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে উপজেলা থেকে এসেছে ২ জন। এছাড়া এখন পর্যন্ত ৭ জনের হাম এবং একজনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে একজনের। অপরদিকে গতকাল পর্যন্ত ১১১ শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজলস–রুবেলা ল্যাবরেটরিতে (এনপিএমএল) পাঠানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগামী রোববার থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের উপজেলার দায়িত্বরত স্বাস্থ্যকর্মীরা নির্দিষ্ট টিকাদান কেন্দ্রের বাইরেও ভ্রাম্যমাণ বুথ বসিয়ে টিকা দিবেন। আমাদের কাছে বর্তমানে পর্যাপ্ত টিকা আছে। টিকার কোনো ঘাটতি নেই।
হামের পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে সিভিল সার্জন বলেন, আজ (গতকাল) পর্যন্ত ১১১ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আরো ১৮ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞা বলেন, আমাদের হাসপাতালে আসা বেশিরভাগ শিশু টিকা নেয়নি। আবার কিছু শিশুর টিকা নেয়ার বয়স হয়নি, আবার কিছু শিশু এক ডোজ টিকা নিয়ে দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। আবার দুই ডোজ টিকা নেয়ার পরে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে এমন শিশুও আছে। তবে অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। সরকার এখন বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। অভিভাবকদের তাই সন্তানদের টিকা দেয়া না থাকলে টিকা দিতে হবে।














