চট্টগ্রাম–১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমদ বলেছেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী উপশহর দোহাজারীর সঙ্গে সাতকানিয়ার নয়াহাট এলাকার সংযোগ স্থাপনের জন্য ‘চৌকিদার ফাঁড়ি ব্রিজ’ নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর কাছ থেকে ডিও লেটারে সই নিয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতুটির টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে এবং নির্মাণকাজ শুরু হবে।
গতকাল শনিবার সকালে দোহাজারী নাগরিক কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রেলপথ প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, ১৮ হাজার কোটি টাকার চট্টগ্রাম–দোহাজারী–কক্সবাজার রেললাইনে বর্তমানে মাত্র এক জোড়া ট্রেন চলাচল করছে, যা চাহিদার তুলনায় নগণ্য। এই রেললাইনের লোকসান ঠেকাতে কোনো বেসরকারি কোম্পানিকে ১৫ থেকে ২০ বছরের জন্য লিজ বা ইজারা দেওয়া গেলে এটি লাভের মুখ দেখবে। এতে ট্রেনের সংখ্যা যেমন বাড়বে, তেমনি যাত্রী ও মালামাল পরিবহনও বৃদ্ধি পাবে। এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে মরণফাঁদ উল্লেখ করে জসীম উদ্দীন আহমদ বলেন, প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় এখানে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। হাইওয়ে থানার তথ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের আমলেই এই সড়কে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৯০ জন নিহত এবং দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। এ কারণে মহাসড়কটি দ্রুত ছয় লেনে উন্নীত করার বিষয়ে কথা হয়েছে। এছাড়া চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার আংশিক এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে আরেকটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দোহাজারী নাগরিক কমিটির সভাপতি মো. আলী আকবরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জসীম উদ্দীন জনির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য রসায়নবিদ ড. সরোজ সিংহ হাজারী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ড. সুকান্ত ভট্টাচার্য্য, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ও সাবেক ছাত্রনেতা এম এ হাশেম রাজু। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দোহাজারী পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. লোকমান হাকিম, অধ্যক্ষ আহমদ হোসেন আলকাদেরী, শামসুদ্দিন সওদাগর, আলী আজম খান, ড. এস এম আবু জাকের, আবদুল নবী খান, বিষ্ণু যশা চক্রবর্তী, সিরাজুল ইসলাম সওদাগর, ইফতেখার উদ্দীন সুমন ও মোরশেদুল আলম চৌধুরী প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দকে শপথবাক্য পাঠ করান সংসদ সদস্য। শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।











