হরিণ শিকারে মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য, পরিবারের পক্ষে হত্যা মামলা দায়ের

পুলিশ বলছে-দুর্ঘটনা নয় পূর্বপরিকল্পিত

হাবীবুর রহমান | সোমবার , ৮ জুন, ২০২৬ at ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ

রাউজানের গহীন বনে লাইসেন্সকৃত বন্দুকের গুলিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে গণমাধ্যমে বিষয়টি ‘হরিণ শিকারের সময় দুর্ঘটনা’ হিসেবে প্রচারিত হয়েছিল, সেখানে পুলিশি প্রাথমিক তদন্ত বলছে ভিন্ন কথাঘটনাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। গত শনিবার বিকালে রাউজানের হলদিয়া রাবারবাগানে সংঘটিত এ ঘটনায় জমির উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে জামাল উদ্দিনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল দুপুরের দিকে এ মামলাটি দায়ের হয়। জামাল উদ্দিনের বন্দুকের গুলিতে জমির উদ্দিনের মৃত্যু হয়। তারা পরস্পর বন্ধু বলে জানা গেছে। তাদের বাড়ি ফটিকছড়ির খিরাম ইউনিয়নে।

পুলিশের দাবি, হরিণ শিকার এখানে কেবল একটি লোক দেখানো, মূলত নেপথ্যে ছিল দীর্ঘদিনের শত্রুতা। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত। এ কারণেই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায়।

এদিকে ‘হরিণ শিকারের সময় দুর্ঘটনা’ হিসাবে প্রচার করে সহযোগীসহ জামাল উদ্দিন ৩০২/৩৪ ধারা তথা খুনের দায় থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু নাকি পূর্বশত্রতার জেরে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ডএখন এই দুই মেরুর অবস্থানে দাঁড়িয়েছে জমির উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটনা। তবে ভিকটিমের পরিবার ৩০২/৩৪ ধারায় যে অভিযোগ এনেছে, তা প্রমাণের জন্য পুলিশের হাতে থাকা পূর্বশত্রুতার তথ্য এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যই হবে প্রধান চাবিকাঠি।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন দেওয়ান দৈনিক আজাদীকে বলেন, ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা হয়েছে। হরিণ শিকারের সময় দুর্ঘটনার বিষয়টি সঠিক নয়। পূর্বসত্রুতার জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটনানো হয়েছে। আমরা হরিণ বা এসমস্ত কোনো কিছুর অস্তিত্ব পাইনি। অভিযুক্ত জামাল উদ্দিনসহ অপরাপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ‘হরিণ শিকারের সময় দুর্ঘটনা’ সংক্রান্ত বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লো কিভাবে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটি আমরা জানি না। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারীফটিকছড়ি) কাজী মোহাম্মদ তারিক আজিজ দৈনিক আজাদীকে বলেন, ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি জামাল উদ্দিনের ফটিকছড়ির বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি লাইসেন্সকৃত বন্দুক।

সিনিয়র আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞ জিয়া হাবীব আহসান দৈনিক আজাদীকে বলেন, হরিণ শিকার করা একটি অপরাধ। হরিণ শিকার করতে গিয়ে কারো মৃত্যু হলে সেটিও অপরাধ। এখন যেহেতু হত্যা মামলা হয়েছে সে অনুযায়ী পুলিশ তদন্ত করে দেখবে যে, আসলে কী হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘হরিণ শিকারের সময় দুর্ঘটনা’ বিষয়টি সম্ভবত দণ্ডবিধির ৮০ ধারায় সুরক্ষা পাওয়ার জন্যই ছড়ানো হয়েছে। বিচারের আগে বা পরে তারা সেই ধারায় সুরক্ষা পেতে চাইবে।

প্রসঙ্গত, ঘটনা পরবর্তী স্থানীয়রা ও পুলিশ গণমাধ্যমে জানায়, স্থানীয় সর্তা বন বিটের আওতাধীন বনাঞ্চলে জামাল উদ্দিন ও তার বন্ধু জমির উদ্দিন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে হরিণ আসার খবর পেয়ে শিকার করতে যান। বনের ভেতরে হরিণকে লক্ষ্য করে জামাল উদ্দিন গুলি ছুড়লে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে জমিরের গায়ে লাগে। গুলিবিদ্ধ জমির উদ্দিনকে তারা দ্রুত খিরাম চৌমুহনী বাজারের এক চিকিৎসকের চেম্বারে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জমির মারা যাওয়ায় লাশ ফেলে জামাল উদ্দিনসহ তার সঙ্গীরা পালিয়ে যান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে মাছে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৫০ গুণ বেশি পারদ!
পরবর্তী নিবন্ধসর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবি পরিচালক ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি তামিম