সিডিএর কাউকে দেখতে না পেয়ে অসন্তোষ মেয়রের

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

প্রবর্তক মোড়ে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে সিডিএ’র কাউকে দেখতে না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় তিনি বলেন, মূল হচ্ছে কাজটা করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে সেনাবাহিনী। আশা করেছিলাম উনারা আজ এখানে থাকবেন। যারা মেগা প্রজেক্টের দায়িত্ব নিয়েছেন। উনাদের দেখছি না। অবাক লাগছে। প্রজেক্টটা তাদের (সিডিএ)। গতকাল তাদের বার বার আসতে বলেছি। তারা কেউ আসেনি। যিনি পিডি আছেন তাকেও বলেছি আসার জন্য, আসেনি। তাদের আসা উচিত ছিল, তারা জনগণকে এঙপ্লেইন করলে জনগণ আরো বেশি আশ্বস্ত হতেন।

তিনি গতকাল দুপুরে এসব কথা বলেন। ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন চট্টগ্রামবাসীর পাশে থাকার জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজকে সংসদে চট্টগ্রামবাসীর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। উনার নির্দেশে আজকে সব জায়গায় আমি ঘুরছি। কোন জায়গায় কিন্তু পানির সমস্যা নেই।

তিনি বলেন, আমি আগ্রাবাদ, হালিশহর, রামপুরা, জামালখান, চকবাজার, বাকলিয়া ও জিইসি গিয়েছি। কোন জায়গায় পানির সমস্যা নেই। শুধু এই অংশটুকু হচ্ছে। যেহেতু এখানে খালের রিটেইনিং ওয়াল করার জন্য সমস্ত শিট পাইলগুলো এখানে দিয়ে রেখেছে। এখানে যথেষ্ট অবস্ট্রাকশন আছে। এগুলো এখন তাদেরকে উঠায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, সেইম কাতালগঞ্জে তারা অবস্ট্রাকশন করে রেখেছে। এগুলো উঠায় ফেললে আস্তে আস্তে ক্লিন হয়ে যাবে। এবং জামালখানেও যেহেতু বাঁধ দেওয়া হয়েছে। ওই বাঁধগুলো তারা এখনো খুলেনি। ওই বাঁধগুলো আস্তে আস্তে খুলে দেওয়া হচ্ছে। পুরো খোলেনি। খুললে একটা ভালো রেজাল্ট আমরা আশা করতে পারি।

প্রবর্তক মোড় থেকে বদনা শাহর মাজার অংশে জলাবদ্ধতার কারণে গাড়ি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে জানিয়ে মেয়র শাহাদাত বলেন, এজন্য মেডিকেলের পরিচালককে বলেছি বিকল্প এই সড়কটা (নার্সিং কলেজের রোড) খুলে দিতে। তিনি খুলে দিয়েছেন। যাতে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে পারে। এখানে যেহেতু পানি উঠছে সবাইকে অনুরোধ করছি এই অংশটা ব্যবহার না করে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য। হিজরা খালে মোট ৩০টা বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। সব বাঁধ এখনো পুরো খুলতে পারেনি। আস্তে আস্তে খুলছে।

ডা. শাহাদাত বলেন, আপনারা আসল জায়গায় কথাটা বলছেন না। ২০১৬ সালে শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে এই প্রজেক্ট না দিয়ে সিডিএকে দিয়ে যে বিশাল ভুল করে গেছে। কেন এই ভুল করল। এই ভুলের কারণে আজ এই সমস্যা হয়েছে। ২০১৬ সালের প্রজেক্ট ১৯ সালে গেছে। ১৯ থেকে ২২ সালে গেছে। আমি ২০২৪ সালে আসার পরে এক বছরে ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

এদিকে চসিকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, খাল সংস্কার প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট সাময়িক জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় সব এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের তাৎক্ষণিক উদ্যোগে অস্থায়ী বাধ অপসারণ করায় জমে থাকা পানি দ্রুত নেমে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসম্পত্তির লোভে স্বামীকে হত্যা চেষ্টা, স্ত্রী ও ছেলে মেয়ে গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধসয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়ল ৪ টাকা