রামু-চকরিয়ায় ডিবি ও পুলিশ পরিচয়ে দুই বাড়িতে ডাকাতি

কক্সবাজার ও চকরিয়া প্রতিনিধি | রবিবার , ৩০ আগস্ট, ২০২৬ at ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারে পৃথক দুটি ঘটনায় ডিবি ও পুলিশ পরিচয়ে বসতবাড়িতে ঢুকে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়িতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বিএনপি নেতার বাড়িতে এবং চকরিয়ার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পাগলিরবিলে পুলিশ পরিচয়ে একটি বসতবাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দুটি ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। দুই ঘটনাতেই সশস্ত্র ডাকাতদল মাইক্রোবাসযোগে এসে বাড়িতে প্রবেশ করে বলে জানা যায়।

রামু : কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়িতে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বিএনপি নেতা ও প্রবাসী ফরিদুল আলমের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে মাইক্রোবাসযোগে আসা ১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাতদল এ ঘটনা ঘটায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফরিদুল আলম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার অভিযোগ, ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে একদল লোক বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় দরজা না খোলায় ডাকাতরা বাড়ির প্রধান ফটকের লোহার গেটসহ চারটি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তাদের হাতে বন্দুক, পিস্তল, ছুরি ও বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ছিল। বাড়িতে প্রবেশের পর পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পুরো বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। এ সময় বাড়িতে থাকা গৃহবধূসহ কয়েকজনকে মারধর করে আহত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ফরিদুল আলম। পরে ডাকাতদের উপস্থিতির খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা দ্রুত মাইক্রোবাসযোগে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চকরিয়া : চকরিয়া প্রতিনিধি জানান, উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পাগলিরবিল এলাকার নুরুল আমিনের বাড়িতে ডাকাত দল পুলিশ পরিচয়ে ঢুকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নুরুল আমিন জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে বাড়ির মূল ফটকে আঘাতের শব্দ শুনে বেডরুম থেকে বের হলে ৫৬ জন মুখোশধারী সশস্ত্র লোককে বাড়ির ভেতরে দেখতে পান। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র ও মালামাল রয়েছে দাবি করে তল্লাশি চালানোর কথা জানায়।

এ সময় ডাকাতরা বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার কথা বললে নুরুল আমিন আলমারি খুলে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার বের করে নিজের কাছে রাখেন। পরে ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখে। ওই কক্ষ থেকে তিনি দেখতে পান, বাড়ির মূল ফটকের দরজা ভাঙা এবং বাইরে আরও ২৩ জন মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তি অবস্থান করছেন। নুরুল আমিন আরও জানান, কিছুক্ষণ পর ডাকাতরা তার হেফাজত থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে নেয়। এরপর তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন নুরুল আমিন। তবে চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পাগলিরবিলে বসতবাড়িতে ডাকাতির বিষয়টি তিনি অবগত নন। এ ব্যাপারে থানায়ও কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচকরিয়ায় শেভরণ হাসপাতালে অভিযান, জরিমানা
পরবর্তী নিবন্ধলুট-অবৈধ অস্ত্রের তথ্য দিলেই ২ লাখ টাকা পুরস্কার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী