রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় একটি বয়স্ক পুরুষ হাতির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম এলাকায় হাতির মৃত্যু খবর পান বলে নিশ্চিত করেছেন কাচালংমুখ বন শুল্ক ও পরীক্ষণ ফাঁড়ি স্টেশন কর্মকর্তা মো. আবদুল কাইয়ুম নিয়াজী।
বন বিভাগ জানিয়েছে, পুরুষ হাতিটির শরীরে দীর্ঘদিন ধরে কিছু ক্ষত চিহ্ন ছিল এবং হাতিটি দুর্বল ছিল। বেশ কয়েক দফায় হাতিকে চিকিৎসাও দেয়া হয়েছিল। হাতিটির বয়স আনুমানিক ৬৫ বছর।
এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্য জয়নাল বলেন, রোববার সকালে আমি হাতিটির অবস্থা দেখতে গিয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দিয়েছি। মৃত হাতিটির পাশে যাওয়া যাচ্ছে না। পাশে একটা মহিলা হাতি দাঁড়িয়ে রয়েছে। মহিলা হাতিটি লোকজন দেখলে তাড়িয়ে দিতে তেড়ে আসে।
কাচালংমুখ বন শুল্ক ও পরীক্ষণ ফাঁড়ি স্টেশন কর্মকর্তা মোঃ আবদুল কাইয়ুম নিয়াজী বলেন, সকালে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের এক সদস্য হাতিটি মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আমাদের খবর দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে হাতিটি মারা গেছে। মৃত হাতিটি পুরুষ হাতি। হাতিটি ওই এলাকায় সবচেয়ে বড় বয়স্ক পুরুষ হাতি। পুরুষ হাতিটির সঙ্গে সব সময় একটা মহিলা হাতি থাকতো এখনও মৃত দেহের পাশে সেই মহিলা হাতিটি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাতিটি অসুস্থ ছিল। শরীরের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ক্ষত চিহ্ন ছিল। এছাড়া হাতিটি শারিরীকভাবে দুর্বল ছিল। বেশ কয়েক দফায় হাতিকে চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছিল। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি হাতিকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করতে। মৃত হাতিটির মরদেহটি উদ্ধার করতে পারলে ময়নাতদন্ত করা হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান শাহ বলেন, হাতিটি কয়েক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ। গত ১০ এপ্রিল চিকিৎসক দল হাতিটিকে চিকিৎসা দেয়। এরপর থেকে বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছিল। ইআরটি টিম সকালে হাতিটিকে খাবার মাধ্যমে ওষুধ খাওয়ানোর জন্য সেখানে যায়। পরে হাতিটির মৃতদেহ দেখতে পায়। মৃত পুরুষ হাতিটির বয়স আনুমানিক ৬৫ বছর।
তিনি আরও বলেন ,মৃত হাতিটির পাশে স্ত্রী হাতি দাঁড়িয়ে রয়েছে। পাশে দাঁড়িয়ে তারা মূলত শোক প্রকাশ করে। স্ত্রী হাতিটি সরে গেলে মৃত হাতিটির দাফন করা হবে।














