স্বাস্থ্যশিক্ষাকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে ডেভ কেয়ার ফাউন্ডেশন নগরীতে যাত্রা শুরু করেছে। গতকাল এই সংগঠনের স্বাস্থ্য সেবা ও স্বাস্থ্যশিক্ষা কেন্দ্র ‘সু–স্বাস্থ্য : সেবা নিন, সুস্থ থাকুন’ এর ‘স্বাস্থ্যশিক্ষা’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক, দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। ডেভ কেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদীর চিফ রিপোর্টার হাসান আকবর। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজের কমিউনিটি মেডিসিন ও এপিডেমিওলজি সহকারী অধ্যাপক ডা. রুমানা রশীদ। অন্যান্যদের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক আমির হোসেন, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ড. জয়নব বেগম, অধ্যাপক ডা. এম এ সাত্তার, অধ্যাপক ডা. অনিরুদ্ধ ঘোষ ও সদস্য অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আহমেদ, স্বাস্থ্যসেবা টিম ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ বলে মন্তব্য করে বলেন, রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা করার চেয়ে আগে থেকেই রোগ প্রতিরোধ করা ভালো। আর এই শিক্ষাটাই পাওয়া যাবে যদি স্বাস্থ্যশিক্ষা সম্পর্কে একজন মানুষ ধারণা রাখেন। অসুস্থ হয়ে ভোগার চেয়ে স্বাস্থ্যশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে অসুখকে দূরে রাখতে পারলেই শুধু ব্যক্তিরই নয়, সমাজেরও লাভ। তিনি অলাভজনক সংগঠন ডেভ কেয়ার নগরীতে স্বাস্থ্যশিক্ষার যে যাত্রা শুরু করলো তা সমাজের অনেক বড় উপকার করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধে এই ধরনের স্বাস্থ্যশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম মানুষের চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এম এ মালেক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কাছে নিজের অনেক ঋণ বলে উল্লেখ করে বলেন, প্রত্যেক মানুষের স্বাস্থ্যশিক্ষা সম্পর্কে একটি ধারণা থাকা উচিত। শুধু রোগীই নয়, রোগীর যিনি দেখভাল করেন তারও এই ব্যাপারে সচেতনতা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য শিক্ষা ছাড়া সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা কঠিন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ ডেভ কেয়ার প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন, স্বাস্থ্যশিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু। এই শিক্ষার অভাবে সমাজে হাজার হাজার মানুষ ভুগছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসক প্রেসক্রিপশন লিখেন, অথচ ওষুধ খাওয়া থেকে শুরু করে সবকিছুই রোগী কিংবা তাদের আত্মীয় স্বজনকে করতে হয়। এখন রোগী কিংবা সেবক যদি স্বাস্থ্যশিক্ষা সম্পর্কে ধারণা না রাখেন তাহলে শুধু প্রেসক্রিপশন দিয়ে রোগীর ভালো হওয়া কঠিন অথবা ওষুধের যেভাবে ফল পাওয়ার কথা সেভাবে পাচ্ছেন না। প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ ডেভ কেয়ারের মাধ্যমে আমরা শুধু রোগী বা নার্স নয়, সাধারণ মানুষকেও স্বাস্থ্যশিক্ষায় সচেতন করতে চাই। আমরা এটিকে একটি সামাজিক বিপ্লবে পরিণত করতে চাই। তিনি ডেভ কেয়ারকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আমাদের সামর্থ্য সীমিত। তাই আমরা পূর্ব রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিকে যে কাউকে স্বাস্থ্যশিক্ষা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমাদের প্রশিক্ষণ ফ্রি, তবে আগে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
নগরীর ও আর নিজাম রোডস্থ গোল পাহাড় মোড়ের সন্নিকটে গড়ে তোলা ডেভ কেয়ারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করে বলেন, আমরা কিছু চিকিৎসক চেম্বারের অর্ধেক ফি’তে এখানে চিকিৎসাসেবা প্রদান করবো। সপ্তাহের একেকসময় একেকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সেবা দেবেন। তবে একজন রোগী যে অর্ধেক ফি দেবেন তাও ওই চিকিৎসক নেবেন না। তিনি ফ্রি রোগী দেখবেন, ফি’র ওই টাকা দিয়ে আমরা ডেভ কেয়ার পরিচালনা করবো।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ডা. রুমানা রশীদ ‘স্বাস্থ্যশিক্ষা’ বিষয়ে বলেন, স্বাস্থ্যশিক্ষা মূলত মানুষের আচরণের পরিবর্তন ঘটায়। স্বাস্থ্যশিক্ষা হলো সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও অভ্যাস অর্জনের শিক্ষা। স্বাস্থ্যশিক্ষার লক্ষ্য হলো মানুষকে তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করে স্বাবলম্বী করা, যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের ও সমাজের স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে পারে। রোগীকে ডাক্তার এর লিখিত প্রেসক্রিপশন অনুসরণে স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান, ল্যাবরেটরি পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে রোগীকে অবগত করানো, সুস্থ থাকার জন্য জীবন যাপন পদ্ধতি (লাইফ স্টাইল) পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা, ঔষধ ব্যবহার পদ্ধতি ইত্যাদি বুঝিয়ে বলা এবং জ্বর ও বিভিন্ন রোগ হলে করণীয় বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ডেভ কেয়ার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ ‘বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস’ উপলক্ষে ম্যালেরিয়ার উপর বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমছে বলে উল্লেখ করে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার কাজ করছে।














