তেলের গাড়িতে বসবে কর, বিদ্যুৎচালিত গাড়িতে ছাড়

| শুক্রবার , ১২ জুন, ২০২৬ at ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ

পেট্রোলডিজেল কিংবা সিএনজির মত জ্বালানিতে চলা বাহন নিরুৎসাহিত করে বিদ্যুৎচালিত গাড়ির (ইভি) ব্যবহার বাড়াতে ২০২৬২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেশকিছু প্রস্তাব করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

অন্তর্দহন (তেলগ্যাসচালিত) ইঞ্জিনের গাড়ির সামগ্রিক করভার প্রায় ২৩ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আর বিদ্যুৎচালিত গাড়ি তৈরির সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক ও অগ্রিম আয়কর কমানোসহ নানা সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে সেখানে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর পরিবহনের বিকল্প হিসেবে দেশে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনে এবং ইলেকট্রিক গাড়ির যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদনে শুল্ক ও কর রেয়াতি সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তাব করছি। যে সকল প্রতিষ্ঠান চার চাকা ও তিন চাকার বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের বডি তৈরি, ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং এবং অ্যাসেম্বলিং সম্পন্ন করার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চ মূল্য সংযোজন করবে, তাদের ক্ষেত্রে উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৩ শতাংশ আমদানি শুল্ক ব্যতীত সকল প্রকার শুল্ককর মওকুফের প্রস্তাব করছি। আর যে সকল প্রতিষ্ঠান পার্টস সংযোজন ও পেইন্টিং কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কিছুটা কম মূল্য সংযোজন করবে, তাদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ব্যতীত অন্যান্য সকল প্রকার শুল্ককর মওকুফের প্রস্তাব করছি।

স্থানীয় ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পের উপকরণ ও কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের অতিরিক্ত ভ্যাট এবং অন্য সকল প্রকার শুল্ককর হতে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়ারও প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী।

এসব রেয়াতি সুবিধা আগামী ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। বিদ্যুৎচালিত গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নের ক্ষেত্রেও অগ্রিম আয়কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সকল ধরনের ইভি বিআরটিএতে রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অগ্রিম আয়করের পরিমাণ ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ইলেক্ট্রিক গাড়ির ২০০, ৩০০, ৪০০ এবং ৪০০ কিলোওয়াটের বেশি ক্যাপাসিটির ভিত্তিতে যথাক্রমে ২৫ হাজার, ৫০ হাজার, ৭৫ হাজার এবং ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ইতোমধ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় অথবা অনুরূপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পরিবহনে বিদ্যুৎচালিত বাস আমদানিতে বিদ্যমান সব শুল্ককর এবং বিদ্যুৎচালিত অন্যান্য বাসট্রাকের ক্ষেত্রে ভ্যাট ব্যতীত সমুদয় শুল্ককর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতির এই সুবিধা আগামী ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। বিদ্যুৎচালিত গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান মোট করভার ৯৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের গাড়ির ক্ষেত্রে ৬৪ শতাংশ এবং ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে বাজেটে।

প্লাগইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল’ (পিএইচইভি) আমদানিতেও শুল্ক হ্রাস করার প্রস্তাব এসেছে অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতায়। নতুন পিএইচইভির ক্ষেত্রে ২০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক গাড়ির ধরনভেদে কমানোর এবং ১৮০০ সিসি পর্যন্ত নতুন গাড়ি আমদানিতে রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর ফলে ১৮০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ পিএইচইভি আমদানিতে মোট করভার ৯৩ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ হবে। আর ২০০০ সিসি পর্যন্ত ব্র্যান্ড নিউ পিএইচইভি গাড়ি আমদানিতে মোট করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে কমে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ হবে। বিদ্যুৎচালিত গাড়ির চার্জার ও চার্জিং স্টেশন আমদানিতেও সকল প্রকার শুল্ককর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ইলেকট্রিক গাড়ির নির্বিঘ্ন চলাচলে সবচেয়ে জরুরি বিস্তৃত চার্জিং নেটওয়ার্ক। এ জন্য চার্জার এবং চার্জিং স্টেশনের জন্য আমদানি পর্যায়ে মোট করভার ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।

বাইক উৎপাদনকারী শিল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণে রেয়াতি সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশিয় ইবাইক উৎপাদনকারী ও সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে পার্টস ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনে নিয়োজিত ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানকেও উপকরণ আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদানের প্রস্তাব করছি।

জীবাশ্ম জ্বালানি বা প্রচলিত তেল ও গ্যাসচালিত গাড়ি আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্ককর বৃদ্ধির প্রস্তাব করে এসব বাহনকে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে বর্ণনা করেছেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ডিজেল, অকটেন বা পেট্রোল চালিত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে আনতে এবং পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক যান ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতে মধ্যম সারির ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসির ‘ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনবিশিষ্ট’ আমদানি করা গাড়ির ওপর বিদ্যমান সামগ্রিক করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅংক দৌড়ে বিভাগীয় সেরা পাহাড়ের উচাইমা, লক্ষ্য দেশসেরা হওয়ার
পরবর্তী নিবন্ধএবারের বাজেট সামগ্রিকভাবে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব