জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠেছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ৪৩ মিনিটে শুরু হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, প্রথম পর্ব চলে ১৫ মিনিটের মতো। মেক্সিকান পপ রক ব্যান্ড মানার গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর গাইতে আসেন ভেনেজুয়েলার জাস্টিন বিবার নামে পরিচিত গায়ক ও গীতিকার ড্যানি ওশান। ঐতিহ্যবাহী মেক্সিকান পোশাকে সজ্জিত শিল্পীদের সঙ্গে গাইতে দেখা যায় তাকে। জে বালভিন, বেলিন্দার গানের পর সবশেষে আসেন শাকিরা, যে তারকা শিল্পী ১৬ বছর আগের ২০১০ বিশ্বকাপে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গেয়ে বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলেছিলেন। এবারের বিশ্বকাপে অফিশিয়াল গান ‘দাই দাই’ (লেটস গো) গান গাইতে দেখা যায় শাকিরাকে, তার সঙ্গে যোগ দেন নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়। শাকিরার গানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় প্রথম পর্বের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এদিন সকাল থেকে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামের বাইরে লাইন পড়েছিল। সকলেই আগে আগে স্টেডিয়ামে ঢোকার ইচ্ছা নিয়ে এসেছিলেন। সকাল থেকে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। যত বেলা গড়ায়, ভিড় বাড়তে থাকে স্টেডিয়ামের বাইরে। প্রচুর মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। অনেকের কাছেই টিকিট ছিল না। তাঁরা স্রেফ বিশ্বকাপ–জ্বরে গা ভাসাবেন বলে হাজির হন। বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরে হাজির হতে দেখা গেছে সমর্থকদের। স্থানীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চেয়েছেন বেশির ভাগই। মেক্সিকোর রক ব্যান্ড ‘মানা’কে দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। স্থানীয় ভাষায় জনপ্রিয় ‘ওয়ে মি আমোর’ গান গেয়ে মেক্সিকোর জনতার হৃদয় জিতে নেয় মানা। গোটা স্টেডিয়াম গাইছিল তাঁদের সঙ্গে। এর পর ভেনেজুয়েলার গায়ক ড্যানি ওসান মঞ্চে ওঠেন। তিনিও স্পেনীয় গান এবং তাঁর জমকালো পোশাকে মাতিয়ে দেন দর্শকদের। এর পরেই যাঁর জন্য অপেক্ষা ছিল, তিনি হাজির হন স্টেডিয়ামে। হলুদ জামা, সাদা মিনিস্কার্ট এবং চোখে রোদচশমা নিয়ে হাজির হন শাকিরা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বার্না বয়।

বিশ্বকাপের ‘থিম সং’ গেয়েছেন তাঁরা। স্টেডিয়াম ফেটে পড়েছে উল্লাসে। শাকিরা এবং বার্না বয়ের নাচ এবং গান মাতিয়ে দেয়। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে সাজানো হয় তারকাবহুল আয়োজন। মেক্সিকোর নানা ঐতিহ্যের প্রদর্শনী ছিল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। শাকিরা ও বার্না বয় ছাড়া আন্দ্রেয়া বোচেলি, ডেভিড গেটা, মেগান থি স্ট্যালিয়ন ও ইজেএ মিলে বিশ্বকাপের আরেকটি অফিসিয়াল সংগীত ‘ডিএনএ’–এর বিশেষ পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। মেক্সিকোর সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে অংশ নেন দেশটির বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান শিল্পী। মঞ্চে ছিলেন পপ গায়িকা বেলিন্ডা, লোকসংগীতশিল্পী লিলা ডাউনস এবং ঐতিহ্যবাহী কুম্বিয়া ব্যান্ড লোস অ্যাঞ্জেলেস আজুলিস। কিংবদন্তি মারিয়াচি শিল্পী আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ পরিবেশন করেন মেক্সিকোর জাতীয় সংগীত।
লাতিন সংগীতের আবহ আরও জমিয়ে তোলেন ভেনেজুয়েলার ড্যানি ওশেন এবং কলম্বিয়ার দুই তারকা জে বালভিন ও রায়ান কাস্ত্রো। তাদের রেগেটন পারফরম্যান্সে গ্যালারিতে বাড়ায় উন্মাদনা। অল্প সময়ে দারুন আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর বিশ্ব ফুটবলের ময়দানী লড়াই শুরু হয়।










