‘২৯ এপ্রিল থেকে ১২ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে’ দাবি করে ‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর’–এর নামে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এতে অনেকের মধ্যে আতংক দেখা দেয়। অথচ উচ্চ তাপমাত্রা নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বা দেশের অন্য কোনো সংস্থা এ ধরনের কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি। এমনকি দেশে ‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর’ নামেও কোনো সংস্থাও নেই। এ অবস্থায় সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে থাকা তথ্যকে ‘ভুয়া’ এবং পোস্টটিকে ‘গুজব’ বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে উচ্চ তাপমাত্রা নিয়ে যখন গুজব জোরালো হয় তখন তাপমাত্রা কমা নিয়ে সুখবর দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এমনকি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় ৩০ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস দেয়। এতে বলা হয়, রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। এছাড়া আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। বান্দরবান, রাঙামাটি, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ঢাকা, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা, পটুয়াখালী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর জেলাসহ খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা কিছু কিছু জায়গা থেকে প্রশমিত হতে পারে। এমনকি ৩০ এপ্রিল থেকে পরবর্তী ৫ দিনেও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ দেশের কোথাও কোথাও অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানায় আবহাওয়া অফিস। পতেঙ্গ আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম আজাদীকে জানান, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকাসমূহের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ–পশ্চিম ও অস্থায়ীভাবে দক্ষিণ–পূর্ব দিক হতে ঘণ্টায় ১০–১৫ কিমি যা অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া আকারে ঘণ্টায় ৩০–৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়াও সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
এদিকে ভুয়া পোস্টটি সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কোনো রেকর্ড নেই এবং বাস্তব পরিস্থিতিতে এমন তাপমাত্রা হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। এ ধরনের গুজব ছড়ানো জনমনে অযথা আতঙ্ক তৈরি করে। কে বা কারা এসব বার্তা ছড়িয়েছে তাদের চিহ্নিত করা উচিত এবং দেশের প্রচলিত আইনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এদিকে ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছে, ‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর’ এর নামে এক্সট্রিম তাপমাত্রার একটি গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাস্তবে বাংলাদেশে ‘বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তর’ নামে আলাদা দপ্তর নেই। মূলত বাংলাদেশে বেসামরিক প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত সরকারি দপ্তরের নাম–ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর। এ দপ্তর হতে তাপমাত্রা সম্পর্কিত এমন কোন বার্তা প্রচার করা হয়নি। সুতরাং গুজব হতে সতর্ক থাকুন। বহুল প্রচারিত গুজবে উল্লেখিত সময়ে দেশের তাপমাত্রা পর্যাপ্ত কমে এসে আবহাওয়া তুলনামূলক আরামদায়ক থাকতে পারে।
এদিকে ফাায়ার সার্ভিস জানায়, ২৯ এপ্রিল থেতে ১২ মে পর্যন্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও করণীয় সংক্রান্ত কোনো বার্তা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃক প্রচার করা হয়নি। এ বিষয়ে কাউকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করা হয়।














