মাতামুহুরীর দুই বাড়িতে ডাকাতি মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৬

চকরিয়া প্রতিনিধি | বুধবার , ১০ জুন, ২০২৬ at ৬:০২ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় বাড়িতে ডাকাতির পর গৃহবধূ ও তার কিশোরী মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাত আড়াইটা থেকে তিনটার মধ্যে মাতামুহুরী উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলোরেজাউল করিম (৩৬), তোফাজ্জল হোসেন (২৩), কেফায়েত হোসেন (২৭), মোহাম্মদ তানজিদ (২৪), মেহেদী হাসান (২৪) ও মোহাম্মদ তারেক (২৬)। তারা সবাই একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানায় পুলিশ। অপরদিকে একই ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়িতেও ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম গৃহবধূর স্বামী চট্টগ্রাম মহানগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। পাশাপাশি তাদের পরিবারের একাধিক সদস্য প্রবাসেও রয়েছেন। এই কারণে বাড়িটিতে ১৫ বছরের কিশোরী ও ৭ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে নিয়ে থাকেন তাদের মা। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে গতকাল ভোররাত আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে প্রায় ১০ সদস্যের একদল সশস্ত্র ডাকাত বাড়িটিতে হানা দেয়। তারা প্রথমে পাকা বাড়ির সামনের জানালার গ্রীলের লোহা কেটে একজন ভেতরে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দরজার ছিটকিনি খুলে দিলে অন্যরা বাড়িতে ঢুকে পড়ে মা ও দুই মেয়েকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় মা ও কিশোরী মেয়েকে পৃথক রুমে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ডাকাতেরা। আর শিশু মেয়েটিকে অন্য একটি কক্ষে বন্দি করে রাখা হয়। এ সময় বাড়ির আলমিরা ভেঙে সেখানে রক্ষিত প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করার পর ডাকাতদলের সদস্যরা ওই বাড়ি ত্যাগ করে। অপরদিকে একই সময়ে ইউনিয়নে প্রবাসী নুরুল আবচারের পাকা বাড়ির পেছনের জানালার গ্রীল কেটে ভেতরে ঢুকে ডাকাতি করে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।

ভিকটিম গৃহবধূর ছোট ভাই (নাম প্রকাশ করা গেল না) দৈনিক আজাদীকে জানানডাকাতেরা চলে যাওয়ার পর পরই বোনের বাড়ি থেকে তার মোবাইলে কল যায়। এর পর বিষয়টি অবগত হওয়ার পর সেখানে ছুটে যান তারা। এ সময় বোন ও কিশোরী ভাগ্নিকে খুব বিমর্ষ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়। এর পর ঘটনার বিস্তারিত জেনে তাদের উদ্ধারের পর চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি)। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ভিকটিম গৃহবধূর ষাটোর্ধ মায়ের ভাষ্যআমার এই পরিণত বয়সে এমন লোমহর্ষক ঘটনার কথা আগে কখনো শুনিনি বা দেখিনি। সশস্ত্র ডাকাতেরা আমার মেয়ে ও কিশোরী নাতনির ওপর যে পাশবিকতা চালিয়েছে তা বলার ভাষা নেই। আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে জানার জন্য চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন না ধরায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে কক্সবাজার জেলা পুলিশের চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) অভিজিত দাস দৈনিক আজাদীকে বলেন, খবর পেয়ে দুই বাড়ি পরিদর্শন করাসহ পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়া হয়। এছাড়াও ঘটনার পর থেকে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে এই পর্যন্ত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। তন্মধ্যে চারজন মা ও মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত রয়েছে বলে শনাক্ত করেছেন।

এএসপিচকরিয়া আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চকরিয়া, মাতামুহুরী উপজেলায় সংঘবদ্ধ অপরাধী যারা আইনশৃক্সখলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোসহ এরূপ অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে তাদেরকে গ্রেপ্তারে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপটিয়ায় ছুরিকাঘাতে যুবককে হত্যা
পরবর্তী নিবন্ধ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ