২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে

ক্রীড়া প্রতিবেদক | বুধবার , ১০ জুন, ২০২৬ at ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ

ওয়ানডে ইতিহাসের সফলতম দলকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এটি। সেখানেই ঘুচল ১৫ ম্যাচ ও ২১ বছরের খরা। ২০০৫ সালে কার্ডিফের সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর এই সংস্করণে জয় ধরা দিল এই প্রথম। গতকাল মঙ্গলবার মিরপুর শেরবাংলা স্টেডিয়ামে মোসাদ্দেকের সঙ্গে তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর ফিফটিতে ৫০ ওভারে ২৮৪ রান তোলে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া ৯ উইকেটে ১৯১ রান তোলার পর বিরূপ আবহাওয়ায় শেষ হয়ে যায় ম্যাচ। ডাকওয়ার্থলুইসস্টার্ন পদ্ধতিতে বাংলাদেশের জয় আসে ৮৬ রানে।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ ধাক্কা খায় দ্বিতীয় ওভারেই। ন্যাথান এলিসের বলে চার মারার পরের বলেই বিদায় নেন সাইফ হাসান ()। ম্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মার্নাস লাবুশেন। এরপর শান্ত এবং তানজিদের সাবলীল ব্যাটিংয়ে ১৫ ওভারে ৯৭ রান তোলে বাংলাদেশ। তানজিদের ফিফটি আসে ৪১ বলে, এরপর বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি। এলিসের স্লোয়ার উড়িয়ে মারার চেষ্টায় থামে তার ইনিংস (৪৪ বলে ৫৪)। জুটি শেষ হয় ৯৬ রানে। শান্ত পঞ্চাশে পা রাখেন ৫৭ বলে। এরপর একটু মন্থর হয়ে পড়েন।

অনিয়মিত স্পিনার ম্যাট রেনশ জোড়া ধাক্কায় নাড়িয়ে দেন বাংলাদেশকে। নিজের বলে লিটন দাসের () দুর্দান্ত ক্যাচ নেওয়ার পর তিনি থামিয়ে দেন শান্তর পথচলাও। শান্ত ৮৬ বলে ৬৭ রান করেন। ১৪০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন একটু নড়বড়ে। কিন্তু মোসাদ্দেক তাতে ভড়কে যাননি মোটেও। ক্রিজে যাওয়ার একটু পরই অ্যাডাম জ্যাম্পাকে ছক্কায় উড়িয়ে দেন মাথার ওপর দিয়ে। বাউন্ডারি আসতে থাকে তার ব্যাটে নিয়মিত। আরেক প্রান্তে তাওহিদ হৃদয় ধুঁকছিলেন সিঙ্গল বের করতে। তবে উইকেট আগলে রেখে সহায়তা করেন তিনি জুটি গড়তে। এই জুটির ৭৫ রান বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয় কাঙ্খিত স্কোরের পথে।

৫১ বলে ৩১ রান করে হৃদয় ফেরেন জেভিয়ার বার্টলেটের স্লোয়ারে। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ পারেননি ব্যাটিং ব্যর্থতার বলয় ছিঁড়ে বের হতে। ১২ বলে ৩ রান করেন মাত্র মিরাজ। তবে শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে কার্যকর একটি জুটি গড়েন মোসাদ্দেক। ৪৯ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর শেষ সময়ের দাবিও মেটান মোসাদ্দেক। নড়বড়ে সময়ে নেমে উপহার দেন ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭০ বলে ৮৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। তাসকিনের ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২০ রান।

২৮৫ রান তাড়ায় অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায়। ম্যাথু শর্টের বেলস উড়িয়ে দেন তাসকিন। লাবুশেনের দুঃসময় আরও দীর্ঘায়িত করে ১ রানেই তাকে থামান মোস্তাফিজুর রহমান। ২ রানে ২ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ইনিংস শুরু করা কুপার কনোলি ও চারে নামা জস ইংলিস চেষ্টা করেন জুটি গড়ার। সেটি সফল হতে দেননি নাহিদ রানা। ইংলিস উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন ১৯ রানে। এরপর আরেকটি জুটি গড়ার চেষ্টা করেন কনোলি ও অ্যালেঙ কেয়ারি। এবার তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান মোসাদ্দেক। ৩৫ রানে বোল্ড হয়ে যান কনোলি। নাহিদ রানা আক্রমণে ফিরে ফিফটির আগেই ফেরান কেয়ারিকে (৪৭)

এরপর অস্ট্রেলিয়া উইকেট হারায় টপাটপ। সামপ্রতিক সময়ে ফর্মে থাকা রেনশকে ২ রানেই আটকে দেন মোসাদ্দেক। নাহিদের গতির সামনে একরকম কম্পমান দেখা যায় অস্ট্রেলিয়ার পরের ব্যাটসম্যানদের। ২৮ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় পরাজয়ের মুখে পড়ে যায় তারা। শেষ জুটিতে ৩৫ রান যোগ করেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যাডাম জ্যাম্পা। এরপর বিদ্যুৎ চমকানো আর বজ্রপাতে বন্ধ হয় খেলা। পরে নামে বৃষ্টি। ম্যাচের সমাপ্তি সেখানেই। গ্রিন অপরাজিত থাকেন ৫২ রানে। গতি আর বাউন্সে আগুনঝরা বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং কাঁপিয়ে চার উইকেট শিকার করেন নাহিদ রানা। মোসাদ্দেকের শিকার দুটি। মোস্তাফিজেরও দুটি। তাসকিন পান ১ উইকেট। ম্যান অব দ্যা ম্যাচ বাংলাদেশের মোসাদ্দেক হোসেন। আগামীকাল ১১ জুন দু’দলের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমাতামুহুরীর দুই বাড়িতে ডাকাতি মা-মেয়েকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, আটক ৬
পরবর্তী নিবন্ধ৮ বছরেও আসেনি গ্যাস, বিনিয়োগ ব্যাহত