ব্যয় বেড়েছে ৪৩৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা

স্লুইচ গেট নির্মাণ প্রকল্প ।। চাক্তাই খাল থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত কর্ণফুলীর তীরে হবে ৪ লেনের সড়ক

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ১৭ আগস্ট, ২০২২ at ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ

চাক্তাইসহ শহরের ১২টি খালের মুখে স্লুইচ গেট নির্মাণে ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল অনুমোদন পেয়েছিল ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর চাক্তাই খাল থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ’ প্রকল্প। সিডিএ’র গৃহীত প্রকল্পটির কাজ ইতোমধ্যে ৬২ শতাংশ শেষ হয়েছে। আওতাভুক্ত ১০টি খালে স্লুইচ গেটের অবকাঠামো নির্মাণ কাজও শেষের পথে। এ অবস্থায় এসে প্রকল্পভুক্ত স্লুইচ গেটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এতে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে ৪৩৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলানগর এনইসি সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় সংশোধিত প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে।
প্রসঙ্গত, প্রকল্পটির ২০১৭ সালে দুই হাজার ৩১০ কোটি ২৪ লাখ টাকায় অনুমোদন পেয়েছিল। এখন বৃদ্ধি পাওয়ায় তা দুই হাজার ৭৪৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সংশোধনের ফলে প্রকল্পে দুটো পরিবর্তন আসবে। প্রথমত, সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে প্রকল্পের আওতায়। এছাড়া সংশোধন করা হবে স্লুইচ গেটের ডিজাইন। এক্ষেত্রে এমএস শিটের স্লুইচ গেটের পরিবর্তে স্থাপন করা হবে ‘এফআরপি’ (ফাইবার রিইনফোর্ডেড প্লাস্টিক) স্লুইচ গেট। কারণ এমএস শিটের স্লুইচ গেটগুলো নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যে জং ধরে যায়। ‘এফআরপি’ স্লুইচ গেটগুলো মরিচারোধক।
এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক ও সিডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী রাজীব দাশ আজাদীকে বলেন, এমএস শিটের স্লুইচ গেটগুলো মরিচা ধরে দুই তিন বছরের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। ফাইবার রিইনফোর্ডেড স্লুইচ গেটগুলো ৫০ বছরেও কিছু হয় না। তাই সেগুলো লাগানো হবে। যত দ্রুত সম্ভব সেগুলো আমরা লাগিয়ে ফেলব। তিনি বলেন, ওয়াকওয়ে করার ফলে মানুষের হাঁটার সুযোগ সৃষ্টি হবে। মানুষ বেড়াতে পারবেন। সেখানে ট্যুারিজমের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রকল্পের সর্বশেষ অগ্রগতি : প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তবনা (ডিপিপি) সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় মোট ১২টি স্লুইচ গেট নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে চাক্তাই খালের মুখে নির্মাণাধীন স্লুইচ গেটের দৈর্ঘ্য ৬০ মিটার, প্রস্ত ১২ মিটার ও উচ্চতা ৩০ ফুট। এখানে থাকবে পাম্প হাউজ, জেনারেটর ও সাব স্টেশন। বাকি ১১টি খালের মুখেও পাম্প হাউজ ও জেনারেটর থাকবে। প্রতিটি খালের মুখের আটটি পয়েন্টে মাটি পরীক্ষা করে স্লুইচ গেটের নকশা করা হয়েছে। স্লুইচ গেটগুলো চালু হলে চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, বঙিরহাট, বৃহত্তর বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও কালুরঘাট ভারী শিল্প এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে সহায়ক হবে।
বর্তমানে ১০টি স্লুইচ গেট নির্মাণ কাজ চলমান আছে। এর মধ্যে চাক্তাই, রাজাখালী, রাজাখালী শাখা-১, রাজাখালী শাখা-৩, শাখা খাল-১, শাখা খাল-২, বলির হাট খাল, নয়া খালের স্ট্রাকচার নির্মাণ কাজ অগ্রগতি ৯০ শতাংশ। একে খান ও ফরেস্ট খালের মুখে নির্মাণ কাজ এখনো প্রাথমিক অবস্থায় আছে। এছাড়া প্রকল্পের সাড়ে ৯ কিলোমিটার বাঁধের মধ্যে সাত কিলোমিটার বাঁধের মাটি ভরাট কাজ শেষ হয়েছে।
জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় চাক্তাই খাল থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত কর্ণফুলীর তীরে ৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটারে চার লেনের সড়ক নির্মাণ করা হবে। যার উচ্চতা বিদ্যমান সড়কের চার থেকে ৯ দশমিক ৪ মিটার উঁচু হবে। সড়কের প্রস্থ হবে ২৪ দশমিক ৫০ মিটার। তীর সংরক্ষণ এবং সড়ক নির্মাণের জন্য ৫৫ লাখ ঘন মিটার মাটি ভরাট করা হবে। এছাড়া প্রকল্পের আওতায় স্লোপ প্রোটেকশন (সিসি ব্লক) করা হবে দুই লাখ সাড়ে ১২ হাজার বর্গমিটর।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ৪শ দিনের আন্দোলন ও নাগরিক সমাজ চট্টগ্রাম
পরবর্তী নিবন্ধহালিশহরে স্বর্ণের দোকানে চুরি