বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সেবা নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট কাঠামো থাকা উচিত

সমন্বয় সভায় গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২৩ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:২০ পূর্বাহ্ণ

বিদেশগামী, প্রবাসী এবং বিদেশফেরত নারীপুরুষকে সেবা দিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সুনির্দিষ্ট একটি কাঠামো থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর। তিনি বলেন, প্রবাসীদের নানা সংকট থাকে। অনেক সময় শূন্যহাতে অনেকে ফেরত আসে। নারীদের সংকট আলাদা। একটা এসওপি থাকলে সরকারের কোন দপ্তরের কী ভূমিকা, বেসরকারি সংস্থাগুলো কী ভূমিকা রাখবে তা উল্লেখ থাকলে এবং সরকারিবেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় করলে প্রবাসীরা আরো বেশি সেবা পেতে পারেন।

সিভিল এভিয়েশন কর্তপৃক্ষ ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম বোটক্লাবে আয়োজিত সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘প্রত্যাশা২’ প্রকল্পের আওতায় এ সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়।

প্রবাসী ও যাত্রীদের কল্যাণে শাহ আমানত বিমানবন্দরের নানা সেবার কথা তুলে ধরেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন শেখ আবদুল্লাহ আলমগীর। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে চট্টগ্রামে ফেরত আসা এপর্যন্ত ৫১ জন প্রবাসীকে সহায়তা করার জন্য ব্র্যাককে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও যেন বিপদে পড়া মানুষের সহায়তায় ব্র্যাক এভাবে এগিয়ে আসে। শুধু ব্র্যাক নয়, সরকারিবেসরকারি সংস্থা মিলে একটা এসওপি হলে ভালো। চট্টগ্রামে আমরা বিষয়টি কীভাবে করা যায় সেটি দেখবো।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পুলিশের বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনেকেই অনিয়মিত পন্থায় কিংবা পর্যটক হিসেবে বিদেশে কাজ করতে যান। সরকার এগুলো বন্ধ করতে চায়। বিমানবন্দরে নজরদারি কঠোর করলে সাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার আগেই আমরা মানুষকে থামাতে পারবো। বিশেষ অতিথি শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপপরিচালক (সিএনএস) মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, চট্টগ্রামের প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ মধ্যপ্রাচ্যে থাকেন। কিন্তু সবাই আর্থিকভাবে সফল হন না। অনেকে দক্ষ হয়ে বিদেশে যায় না। নিয়মকানুন মেনে দক্ষভাবে বিদেশে গেলে অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সভার সভাপতি ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাজ করছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। এসময়ে প্রায় পাঁচ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশফেরত মানুষকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরেই জরুরি সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাক। তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত পাঁচ বছরে এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সহায়তা পেয়েছেন প্রায় ৪০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশফেরত। বিদেশ ফেরতদের যথাযথ সহায়তা দিতে বিমানবন্দরে কাঠামোর কথা তুলে ধরেন তিনিও।

অনুষ্ঠানের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপপরিচালক (এটিএমস্যাটো) সাধন কুমার মোহন্ত, সহকারী পরিচালক মুমিনুর রশিদ, চট্টগ্রাম ওয়েল ফেয়ার সেন্টারের সহকারী পরিচালক আতিকুল আলম, চট্টগ্রামের মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আশরিফা তানজীম, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের স্টেশন ম্যানেজার ফজলে সাব্বির হাসান বক্তব্য রাখেন।

সভায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজা জেরিন, বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিলসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, এয়ারলাইন্স, সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, ইমিগ্রেশন পুলিশসহ সরকারি সংস্থাসমূহের কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচসিকের খালা-নালা পরিষ্কার মনিটরিংয়ে ৯ সদস্যের কমিটি
পরবর্তী নিবন্ধশামিম সভাপতি, কামরুল সম্পাদক ও নুরুল বশর কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত