সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন ভর্তি হচ্ছে শিশুসহ ৭০ থেকে ৮০জন রোগী। তবে এদের মধ্যে বেশির ভাগই রয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত কমলমতি শিশু এবং কিশোর। প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হলেও এখানে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। পাশাপাশি হাম আক্রান্ত হয়েও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৪২ জন।
হাম রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ার ফলে তাদের হাসপাতালের একটি আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছে। নিয়মিতভাবে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া প্রতিদিন আউটডোরে (বহির্বিভাগে) চিকিৎসা নিতে রোগীদের ভিড় দেখা যায়। এদিকে গতকাল রোববার দুপুরের দিকে সরেজমিনে হাসপাতালে (বহির্বিভাগে) দেখা যায়, চিকিৎসা নিতে আসা জ্বরে আক্রান্ত রোগীর ভিড় ছিল বেশি। একদিকে অত্যাধিক গরম, আর অন্যদিকে রোগীদের মারাত্মক চাপ। কিন্তু ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে অনেকেই সুস্থ হয়ে তাদের নিজ নিজ বাড়ি ফিরে গেছেন।
চিকিৎসকরা জানান, বর্তমান সময়ে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বাসা বাড়ির আশেপাশের পাত্রে পানি জমে থাকে। আর সেটিতে ডেঙ্গু মশা ডিম পাড়ে। এ রকম আবহাওয়ায় ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এসিড মশার বংশবিস্তার হয়। এতে করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এদিকে বিআইটিআইডি হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা কিশোর মোঃ ইসমাইল হোসেন রাকিব, শারমিন আক্তার, মোঃ রাকিবসহ অনেকেই জানান, জ্বর থেকেও বেশিরভাগ ভুগতে হচ্ছে তাদের পুরো শরীরের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ব্যথায়। তার সাথে বমি ও অন্যান্য জটিলতা। এদের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত শিশুরা শারীরিক ব্যথা ও বমি করে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ছে।
এদিকে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্লিনিক্যাল ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মামুনুর রশীদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, চলতি মৌসুমে ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন। তার সাথে স্বাভাবিক সর্দি–জ্বর তো আছেই। বর্তমানে জ্বরে প্রতিদিন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশুসহ ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী। তার মধ্যে এঙরে রিপোর্টের মাধ্যমে দেখা যায়, এদের মধ্যে বেশির ভাগই ডেঙ্গু আক্রান্ত। সেই সাথে আবার এ বছর নতুন করে যোগ হয়েছে হাম রোগ। এটি আগে কখনো এতো বেশি দেখা যায়নি। এ হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৪২ জনের মত। এ রোগীদের আলাদাভাবে রাখা হয়েছে। ডেঙ্গু ছোঁয়াচে নয়, কিন্তু হামরোগ ভয়ঙ্কর ছোঁয়াচে। যা বাতাসের সাথে সাথে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, জ্বরে প্রতিদিন গড়ে আউটডোরে (বহির্বিভাগে) চিকিৎসা নিতে আসে শিশুসহ ৮০ জনেরও বেশি। বর্তমানে শিশুসহ ৩৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। শুধু তাই নয় এখন জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা শুধু বেড়েই চলেছে। হাসপাতালে ভাইরাস জ্বরে অতিরিক্ত রোগীর চাপে অনেকটা হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালের চিকিৎসকদের। বর্ষার মৌসুমে এবং শীত মৌসুমে জ্বরের প্রাদুর্ভাব সাধারণত একটু বেশি থাকে। দেহের শ্বাসনালির ভাইরাসজনিত এক ধরনের সংক্রমণ। সাধারণভাবে ডেঙ্গুর লক্ষণ হচ্ছে একটানা জ্বর থাকা। ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে দেয়ার পর আবারও জ্বর শরীরে আসা। এ জ্বর ১০১ ডিগ্রি থেকে ১০২ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। এর সাথে শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা থাকে। তিনি বলেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা যেন অতি সহজেই এবং কম সময়ের মধ্যে সেবা গ্রহণ করতে পারেন সেই জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।












