কোনো অবস্থাতেই থামছে না কক্সবাজারের চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের সীমানা দেয়াল ঘেঁষা বগাইছড়ির মালুম্যা ছড়াখাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। প্রতিদিন অন্তত অর্ধ শতাধিক ডাম্পার গাড়িযোগে পাচার করা হচ্ছে উত্তোলিত বালু।
কক্সবাজার বা বান্দরবানের জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এই ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে ইজারা দেয়নি। এরপরও প্রভাব খাটিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট অবৈধভাবে শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখায় হুমকির মুখে পড়েছে সাফারি পার্কের পূর্বাংশের সীমানা দেয়াল।
প্রসঙ্গত, গত তিনবছর ধরে সাফারি পার্কের দক্ষিণাংশের ছড়ার অংশ ও সংরক্ষিত বনভূমি থেকে অবৈধভাবে শ্যালো মেশিন ও ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে ইতিপূর্বে সাফারি পার্কের দক্ষিণাংশের সীমানা দেয়াল ধসে পড়ে। এরপর পার্ক কর্তৃপক্ষ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে সংরক্ষিত বনভূমি থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘসময় ধরে পার্কের দক্ষিণাংশ দাঙার বিল, রংমহল এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ ভূমিধসও দেখা দেয়। বর্তমানে সেখান থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও এবার পার্কের পূর্বাংশের দিকে নজর পড়েছে সেই বালুখেকো চক্রের।
বর্তমানে যে স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে এর পাশের পাড়া হচ্ছে পূর্ব মাইজপাড়া। ওই পাড়ার ভুক্তভোগী নারী সেলিনা আক্তার, দলিলুর রহমান, খুইল্যা মিয়াসহ পাড়ার অনেকে দৈনিক আজাদীকে জানান, পার্কের পূর্ব পাশের মালুম্যা ছড়াখাল এবং সংরক্ষিত বনভূমির সমতল জমি থেকে গত একমাস ধরে ভূ–গর্ভের বালু উত্তোলনে জড়িত রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী ছাবের আহমদ সিরাজ আহমদ সর্দারের নেতৃত্বে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট।
এই অবস্থায় সেখানে বোরো চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে অনেকবার বলা হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
তবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ স্বীকার করলেও অভিযুক্ত ছাবের আহমদ দাবি করেছেন, তাদের খতিয়ানভুক্ত জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। এজন্য সাফারি পার্ক বা প্রশাসন থেকে আমাদের বাধা দেওয়ার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
তিনি বলেন, মালুম্যা ছড়াখালটিও তাদের খতিয়ানভুক্ত। তাই কারো অধিকার নাই বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ার। একই দাবি সিরাজ আহমদ সর্দারেরও।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. মাজাহারুল ইসলাম বলেন, পার্কের পূর্বাংশে মালুম্যা ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে যারা জড়িত রয়েছে তাদের তালিকা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
তবে আপাতত সেখানে লোক পাঠিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া হবে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক সাজা প্রদান করা হবে।














