ইলিয়াছ ব্রাদার্সের এমডিসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে ৬ মাসের আটকাদেশ

১৬৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের মামলা

আজাদী প্রতিবেদন | শুক্রবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ at ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ

ইস্টার্ন ব্যাংকের ১৬৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ের মামলায় (জারি মামলা) মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ শামসুল আলমসহ পরিবারের ১২ সদস্যের বিরুদ্ধে ৬ মাসের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

 

বাকীরা হলেন, মো. নুরুল আবছার, মো. নুরুল আলম, কামরুন নাহার বেগম, তাহমিনা বেগম, মোহাম্মদ খোরশেদুল আলম, মোহাম্মদ মোরশেদুল আলম, মোহাম্মদ জানে আলম, মোহাম্মদ জাকারিয়া আলম, হাজী মোহাম্মদ রেজাউল করিম, মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাইদুল করিম।

গতকাল চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রেজাউল করিম আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ডিক্রিদার ব্যাংকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ইস্টার্ন ব্যাংক খাতুনগঞ্জ শাখা ২০১৩ সালে দায়িকদের বিরুদ্ধে অর্থঋণ মামলা করে। মামলায় ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ডিক্রি জারি হয় এবং ৬০ দিনের মধ্যে ১২ শতাংশ হারে ৭৯ কোটি ২৩ লাখ ১৩ হাজার ৫৯২ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু দায়িকরা ঋণ পরিশোধ না করায় ডিক্রিদার ব্যাংক ৯৩ কোটি ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৭৩৯ টাকা আদায়ের লক্ষ্যে একই বছরের ৫ নভেম্বর অর্থ জারি মামলাটি দায়ের করে।

আদালত সূত্র জানায়, ঋণের বিপরীতে মর্টগেজকৃত সম্পত্তি নিলামে বিক্রি না হওয়ায় ডিক্রিদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে অর্থঋণ আদালত আইন অনুযায়ী ব্যয় বিক্রি ও ভোগ দখলের অধিকার ডিক্রিদারকে দেয় এবং সনদ প্রদান করে। কিন্তু দায়িকরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় উক্ত মর্টগেজকৃত সম্পত্তি থেকে ডিক্রিদার কোনো টাকা আদায় করতে পারেনি। একপর্যায়ে ডিক্রিদার ব্যাংক দায়িকদের বিরুদ্ধে আটকাদেশ চেয়ে আবেদন করলে ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর দায়িকদের বিরুদ্ধে আটকাদেশ দেওয়া হয়।

কিন্তু উচ্চ আদালতে তা স্থগিত হয়ে যায়। এর কিছুদিন পর উক্ত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারও হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ডিক্রিদার ব্যাংক ফের আটকাদেশ চেয়ে সম্প্রতি আবেদন করে। এর উপর গতকালের আদেশটি জারি হয়।

আদেশে আদালত উল্লেখ করেন, বর্তমানে ডিক্রিদার ব্যাংক সুদসহ দায়িকদের কাছ থেকে ১৬৫ কোটি টাকা পায়। মামলা দায়ের পরবর্তী ১০ বছর অতিবাহিত হলেও দায়িকরা ঋণ পরিশোধে কোনো সদিচ্ছা দেখায়নি। বরং মর্টগেজকৃত সম্পত্তির বিষয়ে দায়িকরা একে অপরের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করে জটিলতা সৃষ্টি করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফের হুমকির মুখে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের পূর্বাংশের সীমানা দেয়াল
পরবর্তী নিবন্ধআনোয়ারার সেই পিআইওকে বদলি