প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সুষম উন্নয়নে সমতলের সাথে সমভাবে এগোবে পাহাড় : পার্বত্য মন্ত্রী

| শনিবার , ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ at ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রামও সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে সমতলের সাথে সমভাবে এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী পাহাড়ের মানুষের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। মন্ত্রী সবাইকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের নিজস্ব শিকড় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে ধারণ করে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এ সত্যটিকে মনেপ্রাণে লালন করতে হবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে রাঙ্গামাটি চিং হ্লা মং মারী স্টেডিয়ামে মারমা সংস্কৃতিক সংস্থা (মাসস) আয়োজিত জলকেলি উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মারমা সমপ্রদায়ের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেক গোষ্ঠী তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হারাতে বসলেও মারমারা তাদের ঐতিহ্য ঠিকই ধরে রেখেছে। তবে পাহাড়ের অনেক বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি রক্ষায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এখনই সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বিভিন্ন সমপ্রদায়ের সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সাংগ্রাই এখন শুধু মারমা সমপ্রদায়ের উৎসব নয়, এটি পাহাড়ের সকল জাতিগোষ্ঠীর সমপ্রীতির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ যে একটি অসামপ্রদায়িক চেতনার দেশ, আজকের এই বিশাল সমাবেশই তার বড় প্রমাণ।

উৎসবমুখর পরিবেশে ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটিতে উদযাপিত হয়েছে মারমা সমপ্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মৈত্রিময় পানি বর্ষণ উৎসব (সাংগ্রাই)

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যরিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে আমরা সকলেই বাংলাদেশী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের ‘বাংলাদেশী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বৈষম্যের ঊর্ধ্বে এনেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের প্রতিফলন আজকের এই বৈচিত্র্যময় সাংগ্রাই উৎসবে ফুটে উঠেছে। পাহাড়ের এই ঐক্যবদ্ধ পরিবেশ বাংলাদেশকে একটি ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতি হিসেবে গড়ে তোলার পথ সুগম করবে। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

উদ্বোধনের পর ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত মারমা তরুণতরুণীরা একে অপরের গায়ে পানি বর্ষণের মাধ্যমে উৎসব মেতে ওঠেন। পুরনো বছরের সকল দুঃখ, গ্লানি ও অপশক্তিকে ধুয়ে মুছে দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোই এই জলকেলি উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানের শুরুতে ফিতা কেটে ও পানি ছিটিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। এ সময় জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিবসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

পূর্ববর্তী নিবন্ধপটিয়ায় হাম-রুবেলা প্রতিরোধে টিকার আওতায় আসছে ৪৫ হাজার শিশু
পরবর্তী নিবন্ধতারেক রহমানের নেতৃত্বে জিয়ার অসমাপ্ত কাজ শেষ হবে : এমপি হুমাম কাদের