চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক হয়ে পর্যটননগরী কক্সবাজার যাওয়ার পথে খুটাখালী এলাকা পার হওয়ার সময় চোখে পড়ে মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান তথা ন্যাশনাল পার্ক। নানা প্রজাতির গাছের পাশাপাশি এই উদ্যানের ৩৯৫ দশমিক ৯২ হেক্টর জায়গাজুড়ে রয়েছে অন্তত ১০ হাজার শতবর্ষী মাদার ট্রি (গর্জন)। গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে সরকার এই বনকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু নানা কারণে এই উদ্যান এখন অনেকটা অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে এই উদ্যান রক্ষায় চারদিকে সীমানা দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি উদ্যোগটি। এতে শতবর্ষী মাদার ট্রি থেকে শুরু করে হরেক প্রজাতির গাছ কেটে নেয়াসহ নানা কারণে উজাড় হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের এই উদ্যান। শুধু তাই নয়, এই উদ্যানের অসংখ্য পাহাড়ও সাবাড় করা হয়েছে এক্সেভেটর দ্বারা। সেই পাহাড়ি মাটি বিক্রি করে স্থানীয় একটি মাটিখেকোচক্র হয়েছে আঙুল ফুলে কলাগাছ। পাশাপাশি উদ্যানের জায়গা দখলে নিয়ে সেখানে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বসতিও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেছেন, এসব কিছুর পরেও এখন চলছে পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়ে উদ্যানের ছোট ছোট গাছপালা ও ঝোপঝাড় পোড়ানোর ঘটনা। উদ্দেশ্য- আগুনে পুড়ে সাফ হয়ে গেলে সুবিধাজনক সময়ে উদ্যানের সেই জায়গা দখলে নিয়ে অবৈধ বসতি নির্মাণ করা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি পর পর দুইদফা পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটিয়েছে উদ্যানের জায়গা দখলে তৎপর থাকা একটি চক্র। তারা কঙবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের মেদাকচ্ছপিয়া ও খুটাখালী বনবিটের নিয়ন্ত্রণাধীন জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত গর্জন বাগানে আগুন দেয়। এতে প্রায় দেড় একর সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছপালা ও ঝোপঝাড় পুড়ে যায়।
মেদাকচ্ছপিয়া বিট অফিস সংলগ্ন জাতীয় উদ্যানে আগুন লাগার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মেদাকচ্ছপিয়া বিট কর্মকর্তা মো. শাহীন আলম। তিনি বলেন, মহাসড়ক সংলগ্ন বনে কারা আগুন দিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নই। তবে খবর পাওয়া মাত্র দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে উদ্যান। তবে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষতি হত এই জাতীয় উদ্যানের।
উদ্যানের আরেক অংশ নরফাঁড়ি বনে আগুন লাগার বিষয়ে খুটাখালী বনবিট কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, রাতের আঁধারে সংঘবদ্ধ একটি বনখেকোচক্র ১৯৮০ সনের নরফাঁড়ি গর্জন বাগানে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। সেই আগুন দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন আমাদের খবর দেয়। দীর্ঘক্ষণ প্রচেষ্টায় সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও আগুনে উদ্যানের সংরক্ষিত বনভূমির দেড় একর মত জায়গার ছোট ছোট গাছপালা, ঝোপঝাড় পুড়ে যায়। তিনি বলেন, উদ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনার পেছনে কারা জড়িত, সেই ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অবশ্য আগুন লাগার বিষয়টি অবগত নন বলে জানিয়েছেন কঙবাজার উত্তর বনবিভাগের ফুলছড়ি রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা ফারুক আহমদ বাবুল। তিনি বলেন, কিছু লোক কয়লা তৈরির জন্য বনে আগুন দিয়ে থাকে। হয়তো সেখান থেকে আগুন লাগতে পারে। তবে এই বিষয়ে সচেতনতার লক্ষে আগে থেকে মাইকিং, লিফলেট বিতরণসহ বিট এলাকায় উন্মুক্ত সভা করা হয়। পাশাপাশি জাতীয় উদ্যানসহ খুটাখালী বনবিটের সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষায় তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।













