সিআরবিতে আবার হাসপাতাল নির্মাণের চেষ্টা হলে আইনি পদক্ষেপ : বিএইচআরএফ

কাল সিআরবি রক্ষা মঞ্চের মানববন্ধন

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৩০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের ফুসফুস খ্যাত সিআরবি এলাকায় পুনরায় হাসপাতাল বা অন্য কোনো অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা আইনানুগভাবে মোকাবিলা করবে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন বিএইচআরএফ। সংস্থার মহাসচিব অ্যাডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান, চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ড. শফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোহাম্মদ হারুন, চট্টগ্রাম জেলার সহসভাপতি অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার সরকার, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এ এইচ এম জসিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান হাবীব বাবু যৌথ বিবৃতিতে উক্ত ঘোষণা দেন।

বিবৃতিদাতারা বলেন, রেলমন্ত্রী মহোদয় আগামী রোববার (কাল) বিকাল ৪টায় সিআরবিতে প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থান পরিদর্শন করতে আসবেন। এ উপলক্ষে সেখানে উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়েছে। অথচ সিডিএর মাস্টার প্ল্যানে এর অনুমোদনের সুযোগ নেই। নগরীর ফুসফুস খ্যাত সিআরবি এলাকাকে ধ্বংসের নীলনকশা তৈরি হচ্ছে কিনা তা জানা দরকার। দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রতিবাদের মুখে এ ধরনের একটি আত্মঘাতী প্রয়াস রুখে দেয় বিগত হাসিনা সরকারের আমলে। পরিত্যক্ত প্রচেষ্টা আবার উত্থাপনের চেষ্টা আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, সাধারণত বিশেষায়িত হাসপাতালগুলো শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে অনেক দূরে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সিআরবিতে পরিবেশ ধ্বংস করে হাসপাতাল নির্মাণ করলে পুরো শহরে যানজট মারাত্মক আকার ধারণ করবে ও দূষিত পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

বিএইচআরএফ পরিবারের পক্ষ থেকে এ ধরনের পরিবেশ ও চট্টলবিদ্বেষী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সিআরবি এলাকাকে বাদ দিয়ে নগরীর বাইরে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। তারা বলেন, চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সিআরবি এলাকায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও ১০০ আসনের মেডিকেল কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ আবারো সামনে এনেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ বিতর্ক, আন্দোলন ও পরিবেশ রক্ষার দাবিতে প্রকল্পটি স্থগিত হওয়ার প্রায় চার বছর পর নতুন করে হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিতে চান বিএনপি সরকারের রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এজন্য তিনি শিগগিরই প্রকল্পস্থল পরিদর্শন করবেন। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর একান্ত সচিব হাবিবুল হাসান রুমি সই করা মন্ত্রীর সফরসূচিতে ১৮ এপ্রিল রেলমন্ত্রী চট্টগ্রাম সফরে আসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী ১৯ এপ্রিল বিকাল ৪টায় তিনি সিআরবি সংলগ্ন গোয়ালপাড়া এলাকায় প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থান পরিদর্শন করবেন।

চার বছর আগে বিএইচআরএফের পক্ষে লিগ্যাল নোটিশ প্রদানসহ নাগরিক আন্দোলনের মুখে স্থগিত হয়েছিল এই প্রকল্প। ২০২২ সালে সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালায়। শিল্পসংস্কৃতির চট্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিআরবিকে ‘ফুসফুস’ হিসেবে উল্লেখ করে পরিবেশ রক্ষার দাবি তোলেন তারা। পরে প্রবল জনচাপের মুখে রেলপথ মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি স্থগিত করে।

পাবলিকপ্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বিনিয়োগে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের চুক্তি করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ৫০ বছর পর পুরো স্থাপনাটি রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর করার কথা, যা তখন রেলওয়ে হাসপাতাল হিসেবে গণ্য হবে। তবে সিআরবির পরিবর্তে চট্টগ্রামের অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে প্রকল্পটি স্থানান্তরের দাবি জানিয়ে বিভিন্ন সংগঠন আবেদন করেছিল। আন্দোলনের পর রেলপথ মন্ত্রণালয় চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।

সিআরবি রক্ষা মঞ্চের মানববন্ধন কাল : নতুন করে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদনের উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান এবং সিআরবি রক্ষা মঞ্চের নেতৃবৃন্দ। এ উপলক্ষে গতকাল সন্ধ্যায় সিআরবি রক্ষা মঞ্চের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডা. মাহফুজুর রহমান জানান, সিআরবিতে নতুন করে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগের প্রতিবাদে আজ (গতকাল) আমরা সিআরবি রক্ষা মঞ্চের সভা করেছি। বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ ও পরিবেশবিদ উপস্থিত ছিলেন। রেলওয়ের নতুন করে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামী ১৯ এপ্রিল সিআরবি এলাকায় সকাল ১০টায় মানববন্ধনের কর্মসূচি দিয়েছি। এরপর নতুন করে কর্মসূচি ঘোষণা করব।

আমরা মনে করি দীর্ঘ আন্দোলনের পর বিগত সরকার সিআরবিতে হাসপাতাল করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে গেলেও এখন নতুন করে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। সিআরবির মতো একটি ঘিঞ্জি এলাকায় এত বড় হাসপাতাল, কলেজ এবং নার্সিং ইনস্টিটিউট করবে কেন? এটা হাসপাতালের জন্য উপযুক্ত জায়গা না। আমরা মনে করি রেলওয়ের জায়গা দখলের একটি প্রক্রিয়া চলছে। তারা হাসপাতাল করতে চাইলে পাহাড়তলী করুক, ফৌজদারহাট, কুমিরা এসব জায়গায় করুক। সিআরবির পরিবেশগত ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় সেখানে বাণিজ্যিক হাসপাতাল নির্মাণ অগ্রহণযোগ্য। এ প্রকল্প চালু হলে আবারও জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হতে পারে। তাই কর্তৃপক্ষকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিআরবিতে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করবেন কাল
পরবর্তী নিবন্ধরাঙামাটিতে ইউপিডিএফ নেতাকে গুলি করে হত্যা