তিন হাজার ৬৬৩ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান আছে

সংবাদ সম্মেলনে সাফল্যের চিত্র তুলে ধরলেন মেয়র

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২৪ মার্চ, ২০২২ at ৮:০২ পূর্বাহ্ণ

খাল খননসহ নগরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) গৃহীত তিন হাজার ৬৬৩ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে আরো ৪৪৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকার প্রকল্প। সম্প্রতি অনুমোদন পেয়েছে দুই হাজার ৪৯১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামকে একটি সুন্দর, পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যসম্মত, নান্দনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চান সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।
দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরেন মেয়র। গতকাল বুধবার সকালে আন্দরকিল্লাহস্থ নগর ভবনের কে বি আবদুস সাত্তার মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটন, গিয়াস উদ্দিন ও আফরোজা কালাম এবং চসিকের সচিব খালেদ মাহমুদ।
মেয়রের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলো হচ্ছে এক হাজার ৩৭৪ কোটি টাকায় বারইপাড়া হতে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন, ২৩১ কোটি টাকায় পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য সেবক নিবাস নির্মাণ, এক হাজার ২৬৮ কোটি টাকায় বিভিন্ন এলাকার সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন এবং বাস-ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ এবং সিটি গভার্ন্যান্সের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে আরো ৭৯০ কোটি টাকার প্রকল্প।
অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ৪৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকার ফুটপাত উন্নয়ন, ৪৯ কোটি ৫১ লাখ টাকায় বিবিরহাটে বাণিজ্যিক ভবন ও কিচেন মার্কেট নির্মাণ, ৪৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় বক্সিরহাট ও ফিরিঙ্গিবাজারে কিচেন মার্কেট উন্নয়ন ও ২৯৮ কোটি ৩২ লাখ টাকায় নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাাপনার জন্য আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প।
এছাড়া অনুমোদিত দুই হাজার ৪৯১ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় নগরের ৭৬৯ কি.মি সড়কের উন্নয়ন, ২২টি কালভার্ট, ১০টি গোল চত্ত্বর, ১৪টি ব্রিজ, ২২টি কালর্ভাট, ৩৮টি ফুটওভার ব্রিজ এবং একটি ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ষষ্ঠ পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন রেজাউল করিম চৌধুরী। ১১ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন তিনি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বগ্রহণ করেন ১৫ ফেব্রুয়ারি। দায়িত্ব গ্রহণের বর্ষপূর্তির দিন মেয়র সৌদি আরব ছিলেন।
এক বছরে মেয়রের সাফল্য : সংবাদ সম্মেলনে দায়িত্ব পালনের এক বছরে নিজের সাফল্যের ফিরিস্তি তুলে ধরেন মেয়র। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- বহদ্দারহাট বারইপাড়া হতে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত খাল খনন প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে খনন কাজ শুরু করা, পোর্ট কানেকটিং সড়কের কাজ ৯০ ভাগ শেষ করা, অত্যাধুনিক চারটি রোড মেইনটেন্যান্স গাড়ির মাধ্যমে শহরে নিয়মিতভাবে প্যাঁচওয়ার্কের মাধ্যমে খানা-খন্দ সড়ক মেরামত করে যান চলাচল উপযোগী করা, ৩০টি সড়কের ৭৬ কিলোমিটার অংশে পোল বসিয়ে এলইডি লাইট স্থাপন ও ফইল্যাতলী বাজহারে কিচেন মার্কেট উদ্বোধন।
লিখিত বক্তব্যের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের সুবিধার্থে প্রায় ২৫ হাজার বর্গফুট স্ল্যাব মেরামত ও নির্মাণ, পথচারীদের নিরাপদে চলাচলের সুবিধার্থে ঝুঁকিপূর্ণ খালপাড়ে প্রায় ১৫ হাজার রক্ষাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়। খাল ও নালা হতে ৪০ লক্ষ ঘনফুট মাটি উত্তোলনের পাশাপাশি বিভাগীয় শ্রমিক ও মালামাল দ্বারা ১৫ লক্ষ বর্গফুট রাস্তা নির্মাণ করা হয়।
এছাড়া গত এক বছরে নগর ভবনের কাজ শুরুর লক্ষ্যে প্রকল্পের ব্যয় কমিয়ে সংশোধিত ডিপিপি প্রেরণের উদ্যোগ নেয়া হয়। ফৌজদারহাট থেকে পতেঙ্গা বীচ পর্যন্ত সিডিএ কর্তৃক নির্মাণাধীন আউটার রিং রোড সংলগ্ন ১০ নং উত্তর কাট্টলী এলাকায় সমুদ্রের পাশে ওশান এমিউজমেন্ট পার্ক ও একটি ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেন মেয়র। পাশাপাশি মেট্রোরেল চালুকরণের উদ্যোগ নিয়েছেন বলে দাবি করেন মেয়র।
বর্তমানে ভারতীয় ঋণ সহায়তায় ২৬০ কোটি টাকায় নগরে এলইডি সড়ক বাতি উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণকালে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার দেনা ছিল চসিকের। এরপরও দায়িত্ব পালনকালে ঠিকাদারের বকেয়া বাবদ ৮৪ কোটি ৫৮ লাখ ২৯ হাজার ৩৫০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ৪৩৬ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আনুতোষিকের ১১ কোটি ৮৫ লাখ ২৮ হাজার ৪৭৫ টাকা টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। সড়ক বাতির বকেয়া বিল বাবদ দুই কোটি ৬৬ লাখ ৬৮ হাজার ২০৩ টাকা পরিশোধ করা হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমশার উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় ‘বিড়ম্বনায়’ মেয়র
পরবর্তী নিবন্ধচবিতে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ১২ কক্ষে ভাঙচুর