টোপাপানায় ম্লান মহামায়া লেকের সৌন্দর্য

মাহবুব পলাশ, মীরসরাই | রবিবার , ৭ জুন, ২০২৬ at ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ

মীরসরাইয়ে পাহাড়ের মাঝে বিস্তীর্ণ মহামায়া লেকের সৌন্দর্য ম্লান হচ্ছে টোপাপানার আগ্রাসনে। লেকে ঢুকেই দর্শনার্থীরা সারি সারি পাহাড়ের নিচে নীল জলরাশি দেখার বদলে দেখছে কচুরিপানায় ভরা জলাধার।

দেড় বছর ধরে লেকের বড় অংশ টোপাপানায় ঢেকে থাকার কারণে দর্শনার্থীও প্রায় শূন্যের কোটায়। লেকের সম্মুখ অংশে কিছু টোপাপানা সরিয়ে পর্যটকদের জন্য নৌকা চালানোর উপযুক্ত করা হলেও পুরো লেকজুড়ে ছড়িয়ে আছে আবর্জনা। কিন্তু পাহাড়ঘেরা বিস্তীর্ণ মহামায়া হ্রদের টলটলে জলরাশির মায়াবী সে দৃশ্য হারিয়ে যাওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে পর্যটকরা। লোকসান হওয়ায় আগামীবার থেকে আর ইজারা না নেওয়ার কথা বলছে বর্তমান ইজারাদার।

২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার পর সৃজন হয় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেচ প্রকল্প মহামায়া লেক। গত ১৫ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত এখানে ছুটে আসত দর্শনার্থীরা। লেকের বিভিন্ন জোনের দুপাশের উঁচু পাহাড়, ঝর্ণা সবাইকেই মুগ্ধ করে। কিন্তুপ্রায় দেড় বছর ধরে এখানে হঠাৎ শুরু হয় টোপাপানা নামে কচুরিপানার আগ্রাসন। পর্যায়ক্রমে পুরো লেক দখল করে ফেলে এই পানা। এতে লেকের পর্যটন খাতের উপার্জনের প্রধান মাধ্যম নৌকা ভ্রমণ কমে যেতে থাকে। অন্যান্য ঈদের ছুটিতে এখানে রেকর্ড সংখ্যক হাজার হাজার লোক সমাগম ঘটতো । কিন্তু গত দেড় বছর ধরে ঈদের ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটির দিনে প্রায় দর্শকশূন্য দেখা গেছে পুরো লেক এলাকা।

জানতে চাইলে করেরহাট রেঞ্জের দায়িত্বরত চট্টগ্রাম উত্তর বন সংরক্ষক মেহেদী হাসান বলেন, এই টোপাপানা এতোটাই ভয়ঙ্কর যে, গত বছর আমরা ঠিকাদারসহ সমন্বয় করে নিজেরা প্রায় ১০ লক্ষ টাকা বাজেট করে টোপাপানা পরিষ্কারের অভিযান শুরু করি। এক পর্যায়ে ঠিকাদার অর্ধেকের বেশি পরিস্কার করে অর্ধেক টাকা নিয়েই পালিয়ে গেছে। কিন্তু এগুলো আবার পূর্বের রূপে চলে এসেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামের বন সংরক্ষক মিহির কুমার লেক পরিদর্শন করেছেন। আমরা ধারনা করছি এই লেক পরিষ্কার করতে কোটি টাকা লাগতে পারে। কারণ একটি ছোট্ট টোপাপানাও যদি লেকের কোথাও থাকে তা থেকে পুরো লেক ছড়াতে অল্প কিছুদিন লাগবে মাত্র।

লেকের ইজারাদার শোয়েব শাহরিয়ার বলেন, আমরা দর্শনার্থীদের জন্য ভ্রাম্যমাণ বাউল শিল্পিসহ নানা বিনোদন ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নিয়েছি। দর্শনার্থীদের জন্য বৈচিত্র্যময় ও পরিবেশবান্ধব নৌকার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ইজারা নেয়ার পর জুন শেষে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকাই লোকসান হচ্ছে হিসেবের খাতায়। তাই আগামীবার আমরা আর ইজারা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কচুরিপানা পরিষ্কার করতে আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে ৬ লক্ষ টাকা খরচ করেছি তাও কিছুই হয়নি। এখন সামান্য অংশজুড়ে টোপাপানা দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে সামান্য অংশে নোকা চালাতে পারছে দর্শনার্থীরা। পর্যটকরা এমন পরিবেশ বিপর্যয়ে হতাশ। তাই অন্য কেউও ইজারা নিবে কিনা সন্দেহ আছে। তবে আমরা চাই কেউ দায়িত্ব নিক। এভাবে চলতে থাকলে তো এই মহামায়া দর্শকশূন্য যেমন হবে তেমনি জঙ্গলে রূপান্তরিত হবে আবার। সরকারও বঞ্চিত হবে রাজস্ব থেকে।

লেক এলাকার দায়িত্বরত বন রেঞ্জ অফিসার আল আমিন বলেন, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও ইজারাদারের সাথে সমন্বয় করে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছি। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ভিজিট করেছে। আশা করছি কিছু একটা সমাধান হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সম্পদের বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ
পরবর্তী নিবন্ধহ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্নভঙ্গ বাংলাদেশের