প্রায় অর্ধশতাব্দী পর আবার চাঁদের আঙিনা ঘুরে এলো মানুষ। ১০ দিনের ঐতিহাসিক সফরে নাসার আর্টেমিস টু মিশনের সফল সমাপ্তি টেনে ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে চার নভোচারী ফিরলেন পৃথিবীতে। বাংলাদেশ সময় গতকাল শনিবার সকাল ৬টা ৭ মিনিট ২৭ সেকেন্ডে (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৭ মিনিটে) স্যান ডিয়েগোর কাছে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করে ওরিয়ন। এই মিশনে মোট সময় লেগেছে নয় দিন এক ঘণ্টা ৩২ মিনিট ৫ সেকেন্ড। খবর বিডিনিউজের।
অবতরণ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে নাসা ওরিয়ন কর্মসূচির ব্যবস্থাপক হাওয়ার্ড হু বলেন, ‘আজকের দিনটি মানুষের মহাকাশ অনুসন্ধানের একটি নতুন যুগের সূচনা।’ এন্ট্রি ফ্লাইট ডিরেক্টর রিক হেনফ্লিং জানান, আর্টেমিস টু মিশনের নভোচারীরা মোট ৭ লাখ ২৩৭ মাইল ভ্রমণ করেছেন এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি ছিল ২৪ হাজার ৬৬৪ মাইল। সংবাদমাধ্যমের একটি প্রশ্ন ছিল, নভোচারীরা কেমন আছেন? জবাবে এন্ট্রি ফ্লাইট ডিরেক্টর রিক হেনফ্লিং বলেন, সবাই ‘প্রফুল্ল ও সুস্থ’ আছেন।
নাসা আশা করছে, আগামী বছরই নতুন অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে। নাসার নভোচারী রিড ওয়াইজম্যানের নেতৃত্বে এ মিশনে ছিলেন পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ ও কানাডীয় নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। একে একে তাদেরকে ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে বের করে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে তুলে এনে নেওয়া হয় কাছাকাছি মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজে। এরপর শুরু হবে নতুন অভিযানে প্রস্তুতি। ওরিয়ন ক্যাপসুল থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে। সব ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের শেষে আর্টেমিস থ্রি মিশনে আবার চাঁদের মাটিতে পা পড়বে মানুষের। তার আগের এক চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়ে গেল আর্টেমিস টু মিশনে।
পৃথিবী থেকে রেকর্ড ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরত্ব পেরিয়ে চাঁদের রহস্যময় অন্ধকার অংশ ঘুরে এসেছেন নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস টু মিশনের চার নভোচারী।














