ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর পর সরকারের ওপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সবকিছু কুক্ষিগত করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকে অভ্যুত্থান করার পরে এখন দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংকে নতুন করে অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে। এই ‘অপসংস্কৃতি’ চলতে থাকলে জামায়াতে ইসলামী ‘বসে বসে আঙুল চুষবে না’ বলেও হুঁশিয়ার করেছেন শফিকুর। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল সোমবার ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার : সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন জামায়াত আমির। আগের দিন ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর খবর আসে। আট মাস আগে তিনি ওই দায়িত্ব নিয়েছিলেন। বেসরকারি খাতে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক এক সময় ছিল জামায়াত নেতাদের নিয়ন্ত্রণে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটি ‘এস আলম মুক্ত’ হয় এবং পুরনোদের প্রভাব আবার বাড়তে শুরু করে। এখন আবার ব্যাংকটি ‘কুক্ষিগত’ করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুললেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, যে ব্যাংক দেশের রেমিট্যান্সের বত্রিশ ভাগ একা আহরণ করে, এই ব্যাংকের যদি অস্তিত্ব বিপন্ন হয়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বঙ্গোপসাগরে চলে যাবে।
সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, সাবধান করে দিচ্ছি, এটাকে দলীয়করণ করবেন না। যদি দলীয়করণ করেন ব্যাংকগুলোকে একটার পর একটা, জনগণ আপনাদেরকে ছেড়ে কথা বলবে না। জামায়াত আমির বলেন, এই দেশের ব্যাংকের মূল মালিক জনগণ, জনগণকে বলব জেগে উঠুন। আওয়াজ তুলুন, ওদের কদর্য চেহারা জাতির সামনে উন্মুক্ত করে দিন। থামিয়ে দিন। থামিয়ে দিতেই হবে ইনশাল্লাহ। আমরা আবারো কথা দিচ্ছি। শুধু রাজনীতির পট পরিবর্তন নয়, সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের জন্য আমাদের এই লড়াই।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, অপসংস্কৃতি যেখানে, সেটা ব্যাংকিং সেক্টর হোক আর যেখানে হোক অর্থনীতিতে, শিল্পে, সংস্কৃতিতে, শিক্ষা ব্যবস্থায়, দেশের আইন অঙ্গনে, যেখানেই হোক ইনশাল্লাহ, আমরা বসে বসে আঙুল চুষবো না। আমরা জনগণের সাথে থাকব, জনগণকে সাথে নিয়ে মোকাবিলা করব ইনশাল্লাহ।
রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। কোরআন পাঠের পর সেমিনারে গণভোট নিয়ে প্যারোডি গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমির শিল্পীরা।
জিহ্বা সংযত’ করুন’ : সেমিনারে জামায়াতের আমির বিএনপির ‘জিহ্বা’ সংযত করার আহ্বান জানান। শফিকুর রহমান বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদেরকে কারো গোলাম বানাতে চাই না। এবং কারো পারিবারিক রাজতন্ত্র বাংলাদেশে চলবে জাতির উপর ফ্যাসিজম হিসেবে, তাও আমরা বরদাশত করব না। রাজনীতির এই দুষ্টচক্র ভেঙে দিতে হবে। একজনের বদলে আরেকজনের প্রশংসায় সংসদের ওয়ান–থার্ড সময় ব্যয় হবে এটা আমরা আর শুনতেও চাই না, দেখতেও চাই না। প্রশংসা হবে জনগণের, সংসদের ভেতরে কথা হবে জনগণের সমস্যা নিয়ে, সেখানে বসে খোলামেলা সমাধান বের হয়ে আসতে হবে। এটাকে বাদ দিয়ে অন্য কিছুর চর্চা হোক সংসদের ভেতরে, এটা আমরা চাই না।
কিন্তু সংসদে আবার ‘ফ্যাসিবাদের কালোছায়া’ দেখা যাচ্ছে মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, আগে ওই সংসদে দাঁড়িয়েই (উচ্চস্বরে) আজকে যারা সরকারি দলের গ্যালারিতে বসেছেন, তাদেরকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে যেভাবে কথা বলা হত, আজকে দুয়েকজন আমাদেরকে লক্ষ্য করে সেইরকম কথা বলা শুরু করেছেন। আমরা তাদেরকে বলি, জিহ্বা সংযত করুন। হলরুমের ভেতরে শ্রোতাদের কেউ কেউ তখন বলে ওঠেন ঠিক! ঠিক! জামায়াতের আমির বলেন, এই মনোভাব এবং এই আচরণ দেখাবেন না। জুলাইযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে প্রজন্ম, যে দেশ গড়ে উঠেছে, এই দেশ কারো চোখ রাঙানির পরোয়া করে না।
অতীত স্মরণ করিয়ে দিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের এই শীর্ষনেতা বলেন, অতীতে যারা এইরকম আচরণ করেছে, তাদের পরিণতি চোখের সামনেই দেখতে পাচ্ছেন। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, মনে রাখবেন, অপকর্ম করলে আগেরটার চাইতে পরের পরিণতি আরো ভয়ঙ্কর হয়। সে পথেই তো হাঁটছেন। বাইরে তো আপনাদের পদচারণা দেখছি না, সবকিছু কুক্ষিগত করছেন। অন্যদের মধ্যে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ সেমিনারে বক্তব্য দেন।














