হাঙ্গেরির প্রবীণ জাতীয়তাবাদী নেতা ভিক্টর অরবান টানা ১৬ বছর প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার পর উদীয়মান মধ্য–ডানপন্থি দল তিসার কাছে ক্ষমতা হারিয়েছেন। রোববারের সাধারণ নির্বাচনে তার এ হার রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে থাকা তার মিত্রদের জন্যও বড় ধাক্কা, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। খবর বিডিনিউজের।
হাঙ্গেরির দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীলদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন, বিশেষ করে তার অনুদার গণতন্ত্রের ধারণার জন্য। কিন্তু অর্থনৈতিক স্থবিরতা, আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা ও অলিগার্কদের হাতে আরও সম্পদ চলে যাওয়ায় তিনি দেশের ভেতর ক্রমশ অজনপ্রিয় হয়ে উঠছিলেন। তার বড় হার হাঙ্গেরির ১৯৯ আসনের পার্লামেন্টে ৪৫ বছর বয়সী পেতর মদ্যার নেতৃত্বাধীন তিসাকে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা উপহার দিয়েছে। এর ফলে দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমালোচনা থেকে রেহাই পাবে আর আটকে থাকা অনেক গণতান্ত্রিক সংস্কারের দিকে অগ্রসর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রায় সব ব্যালট গণনা শেষে তিসা পার্লামেন্টের ১৩৮টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। দুই–তৃতীয়াংশের বেশি এই সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে কাজে লাগিয়ে মদ্যার অরবানের সাংবিধানিক সংস্কার বাতিল করে দেশকে আগের জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়তে পারবেন। রোববারের নির্বাচনে রেকর্ড ভোট পড়াতেই বোঝা যাচ্ছিল, এই নির্বাচনকে হাঙ্গেরির অনেকেই দেশের জন্য সন্ধিক্ষণ মনে করেছিলেন। আমরা পেরেছি। তিসা ও হাঙ্গেরি এই নির্বাচনে জয়ী হয়েছে, বুদাপেস্টের কেন্দ্রে অনন্য সুন্দর দানিউব নদীর তীরে উল্লসিত, নাচতে থাকা হাজার হাজার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে নির্বাচনে জেতার পর এমনটাই বলেন মদ্যার। মদ্যার যখন মঞ্চের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন, সেসময় লাউডস্পিকারে বাজছিল ফ্রাঙ্ক সিনাত্রার মাই ওয়ে, রাতের সেই মুহূর্তে অনেক সমর্থক জ্বলন্ত মোমবাতি ধরে ছিলেন। একসঙ্গে আমরা অরবানের দেশ চালানোর ব্যবস্থা বদলে দিয়েছি, আমরা হাঙ্গেরিকে মুক্ত করেছি, দেশের কর্তৃত্ব ফিরে পেয়েছি, বলেন মদ্যার। তিনি নির্বাচনকে হাজির করেছিলেন, পূর্ব বনাম পশ্চিমের দ্বন্দ্ব হিসেবে। ভোটারদের সতর্ক করে বলেছিলেন, অরবান ও ব্রাসেলসের সঙ্গে তার বিরোধ হাঙ্গেরিকে ইউরোপের মূল ধারা থেকে অনেক দূরে ছিটকে দেবে।









