মহাকাশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই স্থাপনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে গুগল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘প্রজেক্ট সানক্যাচার’ নামের এ প্রকল্পের মাধ্যমে মহাকাশেই এআই কম্পিউটিংয়ের সক্ষমতা যাচাই করবে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট ও এআই কোম্পানিটি।
বৃহস্পতিবার ‘প্রজেক্ট সানক্যাচার’ উদ্যোগের এই প্রোটোটাইপ স্যাটেলাইটটি ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে স্পেসএক্সের ‘ট্রান্সপোর্টার–১৮’ রাইডশেয়ার মিশনের মাধ্যমে মহাকাশে পাড়ি জমায়। ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা বা ইএসএর ‘ফাইস্যাট–১’ মিশনের মতো আগের বিভিন্ন অভিযানে পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মতো নির্দিষ্ট কাজ পরিচালনার জন্য মহাকাশে এআই চিপ পাঠানো হয়েছিল। তবে ডেটা সেন্টার স্তরের শক্তিশালী এআই কম্পিউটিং প্রযুক্তি মহাকাশে সফলভাবে স্থানান্তরিত করা সম্ভব কি না তা পরীক্ষা করার জন্য এটাই বিশ্বের প্রথম উদ্যোগ। খবর বিডিনিউজের।
এ প্রসঙ্গে গুগলের প্রকৌশল পরিচালক মারিয়া বিগস বলেছেন, প্রজেক্ট সানক্যাচার হলো একটি সহজ ধারণা, যেখানে সূর্য থেকে পাওয়া অফুরন্ত শক্তিকে কাজে লাগিয়ে কক্ষপথে বসানো ডেটা সেন্টারের মাধ্যমে এআই অবকাঠামোকে সক্ষমতার সঙ্গে সম্প্রসারিত হবে। বড় ও দূরদর্শী লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুগলের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। প্রজেক্ট সানক্যাচারের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দিক হচ্ছে, এ এমন এক নতুন উপায়, যা মানবজাতির কল্যাণে এআইয়ের অবদানকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ প্রকল্প শেষ পর্যন্ত সফল হলে তা পৃথিবীকে প্রদক্ষিণকারী এআই স্যাটেলাইটের এক নতুন মেগাকনস্টেলেশন যুগের সূচনা করতে পারে। এ বছরের শুরুতে মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন বা এফসিসির কাছে জমা দেওয়া এক আবেদনে এআইয়ের জন্য কক্ষপথে ডেটা সেন্টার হিসেবে কাজ করার উদ্দেশ্যে মহাকাশে ১০ লাখ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের উচ্চাভিলাষী এক লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেছিলেন স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক। মহাকাশে বড় সংখ্যক স্যাটেলাইট পাঠানোর এই পরিকল্পনা অনেক সমালোচনারও জন্ম দিয়েছে।
সমালোচকরা বলছেন, মহাশূন্যে এত বড় সংখ্যায় স্যাটেলাইটের উপস্থিতি সংঘর্ষ ও মহাকাশ বর্জ্যের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। একইসঙ্গে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য এটা মারাত্মক আলোক দূষণের কারণ হবে। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন কোম্পানিও স্পেসএঙের এমন প্রস্তাবটি খারিজ করে দেওয়ার জন্য এফসিসির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মাস্ক একচ্ছত্রভাবে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ দখল বা একচেটিয়া ব্যবসার পাঁয়তারা করছেন।
স্পেসএঙ নিজেদের স্টারলিংক ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বর্তমানে পৃথিবী ঘিরে থাকা প্রায় ১৬ হাজার সক্রিয় স্যাটেলাইটের মধ্যে ১১ হাজারেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করছে। গুগল বলেছে, তাদের প্রজেক্ট সানক্যাচারের প্রাথমিক মিশনটি মহাকাশের শারীরিক চাপ ও চরম মাত্রার বিকিরণের মুখে তাদের এআই হার্ডওয়্যার কীভাবে কাজ করে সে বিষয়ে কক্ষপথ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য নকশা করা হয়েছে। মহাকাশে বাতাসের প্রবাহ না থাকায় চিপগুলো অতিরিক্ত গরম বা ওভারহিটিং হয় কি না প্রকৌশলীরা তাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন।
উৎক্ষেপণের সময় গুগল বলেছে, বড় পরিসরের এআই কম্পিউটেশনের জন্য মহাকাশকে একটি কার্যকর স্থান হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়াটি রাতারাতি সম্পন্ন হবে না। এর জন্য প্রয়োজন সুপরিকল্পিত প্রকৌশলগত কার্যক্রম, যার শুরুটা হবে এটা প্রমাণ করার মধ্য দিয়ে যে, কক্ষপথে কার্যক্রম পরিচালনার সময়কার ভৌত ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির সঙ্গে আমাদের হার্ডওয়্যার মানিয়ে নিতে পারে। এই প্রথম উৎক্ষেপণের লক্ষ্য কোন কোন বিষয় কার্যকর হচ্ছে তা যাচাই, ত্রুটি বা ব্যর্থতার কারণগুলো চিহ্নিত ও সেসব অভিজ্ঞতাকে পরবর্তী বিভিন্ন মিশনে কাজে লাগানো।













