ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি চাই জনসচেতনতা

কর্ণফুলীতে জেলা প্রশাসক

| রবিবার , ৪ অক্টোবর, ২০২৬ at ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ

কর্ণফুলীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহব্যাপী মশক নিধন, বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে সৈন্যার টেক থেকে র‌্যালি বের হয়ে খোয়াজনগর, চর পাথরঘাটা হয়ে পুরাতন ব্রিজঘাট এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। পরে চর পাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়সংলগ্ন এলাকায় লার্ভিসাইড ও ফগার মেশিনের মাধ্যমে স্প্রে ছিটিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ সময় উপজেলার ১০টি ডেঙ্গু হটস্পটে পরিচালিত কার্যক্রম তদারক করেন তিনি।

পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, সীতাকুণ্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচির পর গত সপ্তাহে সেখানে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যু হয়নি। হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যাও কমছে। তবে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতায় জোর দিতে হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলাগুলোর মধ্যে সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীতে সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত সপ্তাহে সীতাকুণ্ডে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়। ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গ্রহণের পর গত সপ্তাহে সীতাকুণ্ডে আর কোনো মৃত্যু ঘটেনি। এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে সেখানে সংক্রমণের হার আরও কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যাও কমছে বলে দাবি করেন জেলা প্রশাসক। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরের হাসপাতালগুলোতে গত দুই দিনে যথাক্রমে ৯২ ও ৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, শুধু চিকিৎসা দিয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা যাবে না। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করতে হবে। এ জন্য বাড়িঘর, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ময়লা–আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।

তিনি বলেন, আপনি আপনার ময়লা নির্দিষ্ট জায়গায় না ফেলে রাস্তায় ফেললে তো হবে না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১২ সেপ্টেম্বর জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্নতার আওতায় আনা হয় বলে জানান জেলা প্রশাসক। এরপর বিভিন্ন উপজেলায় পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন, তারা আমাদেরই ভাই বা নিকটাত্মীয়। আমরা চাই না এভাবে আর কারও প্রাণ যাক। চিকিৎসার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক শয্যা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সরবরাহ করা হয়েছে।

কর্মসূচিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি–কর্ণফুলী) এস এম আমিরুল মোস্তফা ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়াসহ উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধগুগলের হাত ধরে মহাকাশে প্রথমবার গেল এআই
পরবর্তী নিবন্ধবাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬ লাভ করল হোটেল আগ্রাবাদ