কক্সবাজারের উপকূলীয় উপজেলা পেকুয়া ও দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার দীর্ঘদিনের বেড়িবাঁধ ও পানি নিষ্কাশন অবকাঠামোর সংকট নিরসনে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। কুতুবদিয়ায় ধাপে ধাপে বেড়িবাঁধ নির্মাণের অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৬ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বুধবার কক্সবাজার সফরের অংশ হিসেবে পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ও পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। সকালে পেকুয়া সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা এলাকায় বন্যা ও পানির তোড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তার সফর শুরু হয়। সেখানে তিনি ভাঙনকবলিত অংশের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। সামপ্রতিক বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এ বাঁধের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা স্থানীয়রা তার কাছে তুলে ধরেন।
এরপর তিনি কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ও আলী আকবর ডেইল সংযোগ এলাকার বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাঁধের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী জানান, কুতুবদিয়ায় মোট প্রায় ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের প্রয়োজনীয়তার মধ্যে প্রথম ধাপে ৬ কিলোমিটার টেকসই বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।
কুতুবদিয়ার পর পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নের শরৎঘোনা ও সোনালী বাজার এলাকার স্লুইসগেট পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। এসব স্লুইসগেটের বর্তমান অবস্থা, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় এলাকার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেন। স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে স্লুইসগেটগুলোর সংস্কার ও কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি রয়েছে।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, যেখানে সংস্কারের প্রয়োজন সেখানে সংস্কার এবং যেখানে পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন সেখানে পুনর্নির্মাণ করা হবে। উপকূলীয় মানুষের জীবন–জীবিকা রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ ও কার্যকর স্লুইসগেটের গুরুত্ব রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে পেকুয়া–কুতুবদিয়ার উপকূলীয় জনগোষ্ঠী জোয়ার, বন্যা, ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব এলাকার মানুষের জীবন–জীবিকা স্বাভাবিক রাখতে স্থায়ী সমাধানের দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, পেকুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।












