ইরানের ওপর পাঁচ সপ্তাহ ধরে মার্কিন–ইসরায়েলি যৌথ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বার বার সময় বেঁধে দিয়েছেন, যুদ্ধে জয়ী হওয়ার দাবি তুলেছেন এবং একের পর এক হুমকি দিয়েছেন। তবে সেসব হুমকি এবারের মত এতটা স্পষ্ট আগে ছিল না। এবার তিনি বলেছেন, ইরানে নতুন হামলা হবে ভয়াবহ। মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসি সময় রাত ৮টায় (ইরান সময় বুধবার ভোর সাড়ে ৩টা) হামলা শুরু হবে। চার ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতিটি সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, এই পরিণতি এড়াতে হলে ইরানকে এমন একটি চুক্তিতে রাজি হতে হবে যা তার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে তেলের জাহাজ চলতে দিতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ইরানকে ঘায়েল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক রাতের মামলা। তবে একজন সামরিক বিশ্লেষকের বরাত দিয়ে সিএনএন লিখেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওই হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। খবর বিডিনিউজের।
গ্রিফিথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের ফেলো এবং সাবেক রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান এয়ার ফোর্সের কর্মকর্তা পেটার লেইটনের কাছে সিএনএন জানতে চেয়েছিল, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কি ইরানের শত শত বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং লক্ষাধিক সেতু ধ্বংস করতে পারবে? বিষয়টি বোঝার জন্য একটি কাল্পনিক অভিযানের হিসাব কষেছেন লেইটন। তার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছয়টি বি টু স্পিরিট স্টেলথ বোমারু বিমানের একটি বহর এক মিশনে ২,০০০ পাউন্ডের মোট ৯৬টি জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন (জেডিএএম) বহন করতে পারে। বিমানগুলো যদি দিনে দুটি করে ফ্লাইট সম্পন্ন করতে পারে এবং সব বোমা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষমত হয়, তাহলেও মোট ১৯২টি বোমা ব্যবহার করা সম্ভব। ধরা যাক, এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ৪০টি এফ ফিফটিন ঈগল যুদ্ধবিমান অভিযানে যোগ দিল। সেগুলোর প্রত্যেকটি ছয়টি করে ২,০০০ পাউন্ডের জেডিএএম বহন করতে পারে। তাতে আরও ২৪০টি বোমা যোগ হতে পারে। সব মিলিয়ে, বিপুল সংখ্যক লক্ষ্যবস্তুর বিপরীতে মোট বোমার সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৩২টি। লেইটনের মতে, সব বোমা যদি নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষমও হয়, তারপরও তা ট্রাম্পের লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। তিনি বলেন, ‘এভাবে হামলা করে প্রতিটি লক্ষ্যবস্তুর কিছু ক্ষতি করা সম্ভব হবে, কিন্তু মাঝারি থেকে বড় সেতুগুলো ধ্বংস করা কঠিন, এটা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। বিদ্যুৎকেন্দ্র বড় আকারের স্থাপনা, তাই এক আঘাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করতে চাই খুব সূক্ষ্ম পরিকল্পনা। এ ধরনের স্থাপনা সাধারণত শক্তিশালী কংক্রিট কাঠামো দিয়ে নির্মাণ করা হয়।’ যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এই অভিযানে বি ওয়ান ল্যান্সার (প্রতিটি ২৪টি জেডিএএম বহনে সক্ষম) বা বি ফিফটি টু স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস (প্রায় ২০টি জেডিএএম বহন করতে পারে) বোমারু বিমানও যুক্ত করতে পারে। তবুও এক রাতের মধ্যে পুরো ইরানকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা কতটা সম্ভব, সেই সন্দেহ থেকে যায়।
চূড়ান্ত সময়সীমা ঘনিয়ে এলেও, ট্রাম্পের আল্টিমেটাম মেনে নেওয়ার কোনো লক্ষণ ইরান দেখায়নি। অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেদের পাল্টা কিছু দাবি তুলে ধরেছে। বিবিসি লিখেছে, সব মিলিয়ে এক জটিল অবস্থায় পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কোনো সমঝোতা না হলে, গত তিন সপ্তাহে চতুর্থবারের মত তিনি সময়সীমা বাড়াতে পারেন। তবে অশালীন শব্দ আর কঠিন কঠিন সতর্কবার্তা দেওয়ার পর এবারও পিছিয়ে যেতে হলে নিজেকেই খেলো করতে হবে।














