ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় পরিশোধিত তেল আমদানি বাড়িয়েছে বিপিসি। আজ, কাল এবং আগামী ১৭ এপ্রিল ৩০ হাজার টন করে ডিজেল নিয়ে মোট তিনটি জাহাজে ৯০ হাজার টন ডিজেল চট্টগ্রামে পৌঁছাচ্ছে। সিঙ্গাপুর এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানিকৃত ডিজেল বোঝাই জাহাজ তিনটি চট্টগ্রামের পথে রয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ থাকায় পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বাড়িয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) দেশের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছে। বিপিসি বলেছে, বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হচ্ছে। এরমধ্যে ১৫ লাখ টনের কাছাকাছি থেকে পরিশোধন করে ইস্টার্ন রিফাইনারি। বাকি তেল বিদেশ থেকে পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করতে হয়। দেশে ব্যবহৃত জ্বালানির সিংহভাগই ডিজেল। গত অর্থবছরে ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৫ টন ডিজেল ব্যবহার হয়েছে। যা মোট জ্বালানির প্রায় ৬৪ শতাংশ। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশও জ্বালানি তেল সেক্টরে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। এরমধ্যে বেশি সংকট সৃষ্টি হয় ডিজেল নিয়ে। তবে বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গাড়ির দীর্ঘ সারির কারণে পেট্রোল এবং অকটেন নিয়ে সংকট আলোচনায় উঠে আসে। দেশে বছরে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন পেট্রোল ব্যবহার হয়েছে গত বছর। যা মোট জ্বালানি চাহিদার ৭ শতাংশেরও কম। পুরো অর্থবছরে অকটেন বিক্রি হয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৩ টন। যা মোট জ্বালানি চাহিদার ৬ শতাংশ। পেট্রোল এবং অকটেনের বেশিরভাগই তৈরি হয় দেশে। বিভিন্ন গ্যাস ক্ষেত্রের তলানি থেকে উৎপাদিত এসব তেল দেশের সরকারি ও বেসরকারি রিফাইনারিগুলো পরিশোধন করে।
কিন্তু ডিজেলের পুরোটাই আমদানি করতে হয়। ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে ইস্টার্ন রিফাইনারি ডিজেলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্ট উৎপাদন করে থাকে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদিত ডিজেলের বাইরে বিপিসি পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং ভারত থেকে বাংলাদেশ ডিজেল আমদানি করে।
ক্রুড অয়েলের অভাবে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় বিপিসি পরিশোধিত ডিজেল আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ, কাল এবং আগামী ১৭ এপ্রিল সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩টি জাহাজ চট্টগ্রামে আসছে। এসব জাহাজের প্রতিটিতে ৩০ হাজার টন করে মোট ৯০ হাজার টন ডিজেল রয়েছে।
বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ গতকাল দৈনিক আজাদীকে জানান, আমরা দেশের চাহিদার কথা বিবেচনা করে পরিশোধিত ডিজেল আমদানি বাড়িয়েছি। ইতোমধ্যে বিপুল পরিমান ডিজেল দেশে পৌঁছেছে। তিনটি জাহাজ আজ কাল এবং ১৭ এপ্রিল চট্টগ্রামে পৌঁছাবে। চলতি মাসে আরো বেশি কয়েকটি জাহাজ ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে বলে উল্লেখ করে মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ বলেন, দেশে তেলের কোন সংকট নেই। হুড়োহুড়ি এবং পেনিক বায়িংয়ের কারণেই অস্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। পেট্রোল অকটেনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মোটর সাইকেলগুলো বেশি অস্থিরতা তৈরি করেছে। শত শত মোটর সাইকেল তেলের জন্য পাম্পে লাইন ধরে থাকে। বহু মোটর সাইকেল চালকই দিনভর ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে তা বাড়তি দামে বিক্রি করে। অথচ তার প্রয়োজনীয় তেল নেয়ার পর তিনি যদি আর লাইনে না আসতেন তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। বিষয়টিকে দুঃখজনক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।














