অপ্রস্তুত স্বাস্থ্যসেবা আর প্রযুক্তির অভাব প্রতিদিন আমাদের প্রিয়জনদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে – এই নির্মম বাস্তবতাকে বদলে দিতে চট্টগ্রামের তরুণ মেধাবীরা এবার এক হচ্ছে। আগামী ২রা মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথ ২০২৬ – চট্টগ্রাম বিভাগ’। ‘ডিএনএ হ্যাক ফর হেলথ’ মুভমেন্টের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় এই দুই বৃহৎ শক্তিকে এক টেবিলে আনা, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের কেবল ‘ডাক্তার’ হওয়ার চিরাচরিত মনস্তাত্ত্বিক গণ্ডি থেকে বের করে আনা যায়। বর্তমান বিশ্বে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ইঞ্জিনিয়ার, ফিন্যান্স এক্সপার্ট এবং ডাটা অ্যানালিস্টের প্রয়োজনীয়তা আজ অনস্বীকার্য। এই হ্যাকাথন সেই ‘মাইন্ডসেট গ্যাপ’ পূরণ করার একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। আগামী প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তিনির্ভর ক্যারিয়ারের যে নতুন দিগন্ত উঁকি দিচ্ছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব এখন দেশ ও জাতির স্বার্থে অপরিহার্য।
ভবিষ্যতের এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ১০টি সুনির্দিষ্ট ‘মিশন’ নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা ভার্সিটির প্রথম বছর থেকেই নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারবে। সিলেটে আয়োজিত প্রথম পর্বে তরুণরা এআই দিয়ে অটিজম শনাক্তকরণ এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করে মিডওয়াইফদের ট্রেনিং দেওয়ার মতো কার্যকরী প্রোটোটাইপ তৈরি করে বিশেষজ্ঞদের চমকে দিয়েছে। ডিজিএইচএস/এমআইএস–এর সিনিয়র কনসালট্যান্ট মুহাম্মদ আসিফ আতিক এই উদ্যোগকে অসাধারণ সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ডিএনএ হেলথ কমিউনিকেশনের প্রতিষ্ঠাতা এসএমও নাওয়েদ বলেন, আমরা শুধু অ্যাপ বানাচ্ছি না; আমরা জাতীয় সম্পদ তৈরি করছি। এজন্য আমাদের একটি ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ডাটা রিপোজিটরি প্রয়োজন – যাতে চট্টগ্রামের এই উদ্ভাবনগুলো সারা দেশের মানুষের রোগ নির্ণয়ে আরও সাহায্য করতে পারে। চট্টগ্রামের স্থানীয় সমস্যা সমাধানে দলগুলো লড়াই করবে ‘প্রিলিমিনারি রাউন্ড’–এ। সেরা দলগুলো বিভাগীয় ফাইনাল পেরিয়ে ঢাকার ‘ন্যাশনাল গ্র্যান্ড ফিনালে’–তে লড়ার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার নতুন এই ইতিহাস লেখার অংশ হতে নিবন্ধন করা যাবে dnahealth.co/hackathon ও ফেসবুকের facebook.com/dnahealth.co এই লিংকে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।














