উপজেলায় বাড়ছে ডেঙ্গু, নগরে নারীর মৃত্যু

আক্রান্ত বেশি সীতাকুণ্ডে, কম সন্দ্বীপে

জাহেদুল কবির | বুধবার , ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ

নগরীর পাশাপাশি চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতেও বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। শুধুমাত্র সীতাকুণ্ড উপজেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৫শর কাছাকাছি। এছাড়া কর্ণফুলী, রাঙ্গুনিয়া ও বাঁশখালীতেও বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। সবচেয়ে কম আক্রান্ত হয়েছেন সন্দ্বীপে। চট্টগ্রামে চলতি বছর গতকাল পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৬৮৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে ১ হাজার ৬২৩ জন উপজেলার। এছাড়া মারা গেছেন ৯ জন।

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ উপজেলার মধ্যে সীতাকুণ্ড উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯৭ জন। এছাড়া কর্ণফুলী উপজেলায় ২৩৫ জন, বাঁশখালীতে ১১৯ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ১১৫ জন, আনোয়ারায় ৮৬ জন, রাউজানে ৮০ জন, পটিয়ায় ৭৯ জন, সাতকানিয়ায় ৭৭ জন, বোয়ালখালীতে ৬০ জন, লোহাগাড়ায় ৫৯ জন, হাটহাজারীতে ৫৮ জন, মীরসরাইয়ে ৫৭ জন, চন্দনাইশে ৫০ জন, ফটিকছড়িতে ৩৪ জন এবং সন্দ্বীপে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ জন।

অন্যদিকে গতকাল সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া নগরীর বেসরকারি হাসপাতালে নাজমা নামে ৪৯ বছর বয়সি এক নারী মারা গেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ৩৭ জন, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে ১৪ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১২ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১৮ জন। চলতি সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬৪৭ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। এর আগে আগস্টে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২০২ জন, মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। জুলাই মাসে আক্রান্ত হন ৫৩৬ জন, মৃত্যু হয় দুজনের। জুনে আক্রান্ত ১২২ জন, মে মাসে ৩৭ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মার্চে ২০ জন এবং ফেব্রুয়ারিতে আক্রান্ত হন ২২ জন, মৃত্যু হয় একজনের। জানুয়ারিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ৬৮ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামে বর্তমানে কখনো মাঝারি, কখনো থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিভিন্ন জায়গায় স্বচ্ছ পানি জমছে। বিশেষ করে ফুলের টব ও ডাবের খোসা, গাড়ির টায়ারসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত বস্তুতে পানি জমার কারণে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশা প্রজননে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীও বাড়ছে। তাই সবাইকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখাসহ কোথাও যাতে তিন দিনের বেশি পানি না জমে সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। এছাড়া রাতে ছাড়াও দিনের বেলায় মশারি টানাতে হবে।

চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. সাজেদুর রহমান আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রামে উপজেলাগুলোতেও ডেঙ্গু আক্রান্ত বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙগুলোতে আলাদা ডেঙ্গু ব্লক করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আলাদা ডেঙ্গু ব্লকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডেঙ্গু চিকিৎসায় আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে চট্টগ্রামে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪ হাজার ৮৬৪ জন, মারা যান ২৭ জন। ২০২৪ সালে মোট আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪ হাজার ৩২৩ জন, মারা যান ৪৫ জন। ২০২৩ সালে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৪ হাজার ৮৭ জন। এর মধ্যে মারা যান ১০৭ জন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচবির শাটল ট্রেন সংস্কারে রেলওয়ের ১৫ উদ্যোগ
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে তিন শিশুর মৃত্যু