এবারের ঈদের ছুটিতে আশানুরূপ বুকিং হয়নি কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে। প্রতি বছর দুই ঈদে হোটেলগুলোতে প্রায় শতভাগ বুকিং থাকলেও এবারের ঈদের ছুটিতে কেবল তারকা হোটেলগুলোতেই ৫০% থেকে ৬০% বুকিং হয়েছে, আর বাকি হোটেলগুলোকে বুকিং হয়েছে মাত্র ১০% থেকে ১৫%। এমন তথ্যই জানিয়েছেন কক্সবাজারের হোটেল মালিকরা।
হোটেল মালিকরা জানান, প্রতিবছর দুই ঈদ এবং থার্টিফার্স্ট এর ছুটিতে কক্সবাজারে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে। এসময় হোটেল–মোটেলে শতভাগ রুম বুকিং থাকে। বর্তমানে কক্সবাজার শহরের পাঁচ শতাধিক আবাসিক হোটেল ও কটেজে প্রায় দেড় লাখ পর্যটকের রাতযাপনের সুবিধা রয়েছে। সেই তুলনায় এবারের ঈদে খুব কম রুমই বুকিং হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ ট্যুরিজম সার্ভিসেস এসোসিয়েশন কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার হোটেল–মোটেল–গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার।
তিনি জানান, এবারের ঈদের ছুটিতে কক্সবাজার হোটেল–মোটেল–গেস্ট হাউস মালিক সমিতির মালিকানাধীন মধ্যম মানের তারকাবিহীন হোটেলগুলোতে ১০% থেকে ১৫% এর বেশি কক্ষ বুকিং হয়নি। তবে তারকা হোটেলগুলোতেই ৫০% থেকে ৬০% বুকিং হয়েছে বলে জানা গেছে। কক্সবাজারের তারকা হোটেলগুলোতে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার পর্যটকের রাত যাপনের সুবিধা আছে। কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্টস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, তাদের মালিকানাধীন হোটেলগুলোতে ৪০% থেকে ৫০% পর্যন্ত কক্ষ বুকিং হয়েছে। কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশনে (টোয়াক) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, এবারের ঈদ হচ্ছে তীব্র গরমের সময়। এ কারণে আবহাওয়ার উপরই হয়ত পর্যটক আসা নির্ভর করছে।
কক্সবাজার ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশনের (টোয়াক) প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এসএম কিবরিয়া খান বলেন, এবারের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের কক্সবাজার ভ্রমণ নির্ভর করছে তাদের অর্থনৈতিক অবস্থার উপর। এ কারণে এবার বুকিং কম হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।
পর্যটকেরা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, বার্মিজ মার্কেট, শুটকিপল্লী, দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটুয়ারটেক ও টেকনাফ সমুদ্র সৈকত ছাড়াও জাহাজে সেন্টমার্টিন দ্বীপে এবং স্পিডবোটে সোনাদিয়া দ্বীপে ভ্রমণে যাচ্ছেন। আর কেউ কেউ ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, রামু বৌদ্ধ মন্দির ও মহেশখালী আদিনাথ মন্দির পরিদর্শনে। পাশাপাশি ঘুরতে যাচ্ছেন কক্সবাজারের পার্শ্ববর্তী পার্বত্য বান্দরবান জেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভ্রমণে আসেন।
টুরি্যস্ট পুলিশ কক্সবাজার রিজিয়নের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান জানান, ঈদসহ বিশেষ বিশেষ ছুটিতে কক্সবাজারে কমবেশি পর্যটকদের চাপ থাকে। আর এ চাপের কথা মাথায় রেখেই এবারের ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারের রাস্তাঘাটে এবং পর্যটন স্পটসমূহে ট্যুরিস্ট পুলিশের টহল বাড়ানো হবে। এছাড়া শহরের কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সৈকতে গ্রহণ করা হবে দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা পুলিশ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, কক্সবাজারে পর্যটকেরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের বিচকর্মীরা দায়িত্ব পালন করবে। দুইজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পর্যটন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতও সক্রিয় করা হবে।












