বেআইনিভাবে এক বন্দিকে আটক রাখার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালতে লিখিত জবাব দাখিল করেছেন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন। এরই ধারাবাহিকতায় আদালত উক্ত লিখিত জবাবটি নথিভুক্ত করেছে বলে গতকাল দৈনিক আজাদীকে নিশ্চিত করেছেন বন্দির আইনজীবী আনসার উল্লাহ সৌরভ।
আদালত সূত্র জানায়, লিখিত জবাবে সিনিয়র জেল সুপার জানান, গত ১৬ সেপ্টেম্বর জামিন আদেশ যাচাই–বাছাই করে মুক্তিদানের পূর্ব মুহূর্তে পুলিশ প্রসিকিউশন থেকে জানানো হয়, ইলিয়াছ হোসেন নামের ওই বন্দি বিশেষ প্রকৃতির, তার নামে আরো মামলা আছে এবং খুলশী থানার একটি মামলার (শ্যোন অ্যারেস্ট) ফরোয়ার্ডিং কপি কারাগার বরাবর পাঠানো হয়েছে। ফলে ওইদিন বন্দিকে জামিন প্রদান স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তী আইনগত জটিলতা নিরসন ও ভুল মুক্তি এড়ানোর লক্ষ্যে আদালতের অফিস সময় শেষ হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি যাচাই–বাছাই করা সম্ভব হয়নি। পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর সকালবেলা উক্ত বন্দির খুলশী থানার মামলার হাজিরা পরোয়ানা কারাগারে আসে এবং ২০ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করার নির্দেশ থাকায় উক্ত বন্দিকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়নি।
আদালত সূত্র আরো জানায়, ইলিয়াছ হোসেন নামের ওই বন্দিকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে উল্লেখ এবং আইনগত পদক্ষেপ চেয়ে আইনজীবী আনসার উল্লাহ সৌরভ একটি আবেদন করেন। এরই প্রেক্ষিতে ওইদিন আদালত কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারকে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন।
ইলিয়াছ হোসেন নগরীর ওমরগণি এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ও সংগঠনটির কেন্দ্রীয় উপশিক্ষা ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক।
আইনজীবী আনসার উল্লাহ সৌরভ জানান, নগরীর চকবাজার থানার তিনটি মামলায় ৬ জুন গ্রেপ্তার হন ইলিয়াছ হোসেন। এর আগে ১৪ মে নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের সামনে সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের জানাজা শেষে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাকে ১৪ জুলাই গ্রেপ্তার দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট) হয়। এ মামলায় তিনি ৭ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করলে ১৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে জামিননামা রিসিভ করানো হয়। তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো পেন্ডিং পি–ডব্লিও কিংবা আগের কোনো মামলায় সি–ডব্লিও আদেশ ছিল না। কিন্তু কারাগার কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি না দিয়ে বেআইনিভাবে আটকে রাখে।











