আজ ২৮ জুলাই, বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও এ দিনটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য– ‘আসুন রুখে দেই’– হেপাটাইটিস নির্মূলে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানায়।
দিবসটির উদ্দেশ্য হলো ভাইরাল হেপাটাইটিস সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। ভাইরাল হেপাটাইটিস হলো লিভারের একটি প্রদাহজনিত রোগ, যা সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না করলে লিভারের জটিল রোগ, সিরোসিস এবং লিভার ক্যান্সারের কারণ হতে পারে।
২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি (ক্রনিক) হেপাটাইটিস বি বা হেপাটাইটিস সি–তে আক্রান্ত অবস্থায় জীবনযাপন করছিলেন এবং জন্মের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৪৫% নবজাতক হেপাটাইটিস বি–এর টিকা গ্রহণ করেছে। একই বছরে দীর্ঘমেয়াদি (ক্রনিক) হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি–জনিত কারণে প্রায় ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। হেপাটোলজি সোসাইটি, ঢাকা, বাংলাদেশ এর তথ্যমতে, দেশে প্রায় ১ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত।ন্যাশনাল লিভার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর তথ্যমতে মোট জনসংখ্যার ৪–৭% মানুষ হেপাটাইটিস বি এবং ১–৩% মানুষ হেপাটাইটিস সি ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রায় ৩.৫% গর্ভবতী নারী হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত যা নবজাতকের মধ্যে হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সংক্রমণের একটি সম্ভাব্য উৎস। হেপাটাইটিস নির্মূলে প্রয়োজনীয় কার্যকর উপায় ইতোমধ্যেই রয়েছে। হেপাটাইটিস বি–এর জন্য কার্যকর টিকা, নির্ভুল রোগনির্ণয় পদ্ধতি, হেপাটাইটিস সি–এর জন্য নিরাময়যোগ্য চিকিৎসা এবং হেপাটাইটিস বি–এর জন্য কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা সংক্রমণ প্রতিরোধ, জীবন রক্ষা এবং লিভার ক্যান্সার ও সিরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সক্ষম। তবুও বাস্তবতা হলো, এখনও কোটি কোটি মানুষ সময়মতো রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। এর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে সামাজিক কুসংস্কার (ঝঃরমসধ), সচেতনতার অভাব, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং বৈষম্য।
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২৬ আমাদের আহ্বান জানায়–বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে। এর জন্য প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার, টেকসই বিনিয়োগ এবং সবার জন্য সমানভাবে প্রতিরোধ, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নিশ্চিত করা। হেপাটাইটিস প্রতিরোধে করণীয়: রক্ত নেয়ার পূর্বে পরীক্ষা করে নেয়া, অনিরাপদ যৌন মিলন থেকে বিরত থাকা, অন্যের ব্যবহৃত ব্লেড, রেজার বা সিরিঞ্জ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা, নবজাতকের জন্মের ২৪ ঘন্টার মধ্যে হেপাটাইটিসের টিকা নেয়া, নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করানো এবং বাইরের খোলা খাবার ও পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। আসুন, সচেতনতা বাড়াই, হেপাটাইটিস প্রতিরোধ করি এবং একটি হেপাটাইটিস–মুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলি।
লেখক : লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ; সহযোগী অধ্যাপক, হেপাটোলজি বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল











