মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট গঠন ও অনিয়মের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের কয়েকজন সংসদ সদস্যদের মালিকাধীন রিক্রুটিং এজেন্সিসহ ৪৯টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গত রোববার মন্ত্রণালয়ের এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়েছে, লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন, ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট সব আইন ও বিধি বিধান পালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের ও গৃহীত হয়েছে। এ অবস্থায়, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩’–এর ধারা ১৩ অনুযায়ী এসব রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার ও জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করার কথা বলা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। খবর বিডিনিউজের।
বাতিল হওয়া এজেন্সির মধ্যে আছে আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ মুস্তাফা কামালের স্ত্রী ও মেয়ের মালিকানাধীন দুটি এজেন্সি অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ ও অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল। ঢাকা–২০ আসনের দলটির সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল ও ফেনী–২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড, ফেনী–৩ আসনের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদউদ্দিন চৌধুরীর ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল। এছাড়া জনশক্তি খাতের আলোচিত ব্যবসায়ী নূর আলীর ইউনিক ইস্টার্ন প্রাইভেট লিমিটেড এবং মালয়েশিয়া সিন্ডিকেটের আলোচিত রুহুল আমিন ওরফে স্বপনের ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালও তালিকায় রয়েছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও ‘সিন্ডিকেটের’ কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়া বন্ধ করেছিল মালয়েশিয়া। ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর আবার বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রমিক নেওয়ার চুক্তি করে দেশটি। ওই সময় শ্রমিক ভিসায় দেশটিতে যেতে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার ৫৪০ টাকা ফি নির্ধারণ করে সরকার। ২০২২ সালে এক অফিস আদেশে এ খরচ নির্ধারণ করেছিল প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকারের চুক্তির আওতায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১০টি নির্ধারিত রিক্রুটিং এজেন্সি দেশটিতে শ্রমিক পাঠাত। পরে ২০২১ সালে নতুন একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে দুই দেশ। এতে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০টি করা হয়। তবে সেখানেও নতুন ‘সিন্ডিকেট’ তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ১০০ এজেন্সির মধ্যে ২০–২৫টি এজেন্সির ‘সিন্ডিকেটই’ নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে মালয়েশিয়ার কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়া। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান নামে দুদক। এর ধারাবাহিকতায় এর আগেও কয়েকটি এজেন্সির কর্ণধারদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সংস্থাটি। এবার আরও ৬০টি মামলা করার উদ্যোগ নেয় দুদক। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এসব এজেন্সি ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন শ্রমিক মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছে। সরকার নির্ধারিত ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকার পরিবর্তে তার চেয়ে পাঁচগুণ বেশি অর্থ নিয়ে তারা মোট ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি ২০ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে এমন অনিয়মের অভিযোগে অন্য যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে সেগুলো হল–মেসার্স শাহীন ট্রাভেলস, ইরভিং এন্টারপ্রাইজ, হেইডোরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত অ্যাসোসিয়েট, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, মেসার্স বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড, মেসার্স কিউ কে কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড। ইউনাইটেড এঙপোর্ট লিমিটেড, জিএমজি ট্রেডিং (প্রাইভেট), লিমিটেড, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড, মেসার্স ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, মদিনা ওভারসিজ, আল–খামিস ইন্টারন্যাশনাল, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, ডাহমাশি করপোরেশন লিমিটেড, গ্যালাঙি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানিসপাওয়ার করপোরেশন, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস। আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, নাতাশা ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, জান্নাত ওভারসিজ, বিএম ট্রাভেলস লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেট সার্ভিসেস লিমিটেড, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালটেন্সি, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জে জি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট, ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড, পি.আর. ওভারসিজ লিমিটেড, মেসার্স এমইএফ গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেড।










