অস্ট্রেলিয়ার পর আফগানিস্তান, বাংলাদেশের সামনে নতুন লড়াই

আবুধাবিতে একমাত্র টেস্ট আজ শুরু

ক্রীড়া প্রতিবেদক | শুক্রবার , ৯ অক্টোবর, ২০২৬ at ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের আত্মবিশ্বাস এবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ। আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ শুক্রবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় শুরু হবে একমাত্র টেস্টটি। ম্যাচটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। তবু বাংলাদেশের কাছে এর গুরুত্ব কম নয়। অস্ট্রেলিয়া সফরের পর দেশের বাইরে ভিন্ন কন্ডিশনে নিজেদের আরেকবার পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অন্যদিকে আফগানিস্তানের জন্যও এটি নিজেদের টেস্ট সামর্থ্য দেখানোর বড় মঞ্চ।

বাংলাদেশ দলে এবার অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের ভালো মিশেল। নেতৃত্বে শান্ত। সবচেয়ে আলোচিত নাম তাওহীদ হৃদয়। টেস্ট দলে ফেরার আগে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’র বিপক্ষে ৩৫০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন তিনি। বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটিই কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুযোগ পেলে তাই হৃদয়ের ব্যাটের দিকে আলাদা নজর থাকবে।

অভিজ্ঞতার জায়গায় বাংলাদেশের বড় ভরসা মুশফিকুর রহিম, মোমিনুল হক ও লিটন দাস। অধিনায়ক শান্তও আফগানিস্তানের বিপক্ষে দারুণ স্মৃতি নিয়ে মাঠে নামবেন। ২০২৩ সালে মিরপুরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছিল ৫৪৬ রানের বিশাল জয়।

দুই দলের টেস্ট ইতিহাস অবশ্য খুব ছোট। এখন পর্যন্ত দুটি টেস্ট খেলেছে তারা। দুটিতেই জয় এসেছে একেক দলের ঘরে। ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের কাছে ২২৪ রানে হেরেছিল বাংলাদেশ। রশিদ খানের দুর্দান্ত বোলিং ছিল সেই জয়ের অন্যতম ভিত্তি। চার বছর পর ২০২৩ সালে মিরপুরে সেই হারের জবাব দেয় বাংলাদেশ। ৫৪৬ রানের জয়টি টেস্ট ইতিহাসে রানের ব্যবধানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়গুলোর একটি। ফলে দুই দলের মুখোমুখি লড়াই এখন ১–১ সমতায়। আবুধাবির ম্যাচে যে দল জিতবে, প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এগিয়ে যাবে তারাই।

আফগানিস্তানও প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে। টেস্ট দলের নেতৃত্বে আছেন রহমত শাহ। ব্যাটিংয়ে তার সঙ্গে রয়েছেন হাশমতউল্লাহ শহীদি, সেদিকউল্লাহ আতাল, আবদুল মালিক ও শাহিদউল্লাহ কামাল। উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্বে থাকবেন ইকরাম আলিখিল ও আফসার জাজাই। বোলিংয়ে কায়েস আহমেদ, ইয়ামিন আহমদজাই, জিয়া–উর রহমানসহ বেশ কয়েকজন। তবে আফগানিস্তানের দলে নেই তাদের সবচেয়ে বড় তারকা রশিদ খান। দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট থেকে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। ফলে আগেরবার বাংলাদেশের বিপক্ষে আফগানদের যে স্পিন–নির্ভর শক্তি দেখা গিয়েছিল, এবার তার চেহারা কিছুটা আলাদা।

বাংলাদেশের জন্য বড় প্রশ্ন হবে আবুধাবির গরম ও কন্ডিশনের সঙ্গে কতটা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে দল। দলের একাংশ আগে থেকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে অনুশীলন করেছে এবং ইউএইর বিপক্ষে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে। অন্যদিকে এশিয়ান গেমসে থাকা লিটন, শান্ত, হৃদয়, শরিফুল, হাসান মাহমুদ ও তানজিদ পরে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। ফলে প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও দুই অংশের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য ছিল।

এই ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের দিকেও থাকবে বড় নজর। অস্ট্রেলিয়া সফরে হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলামরা নিজেদের সামর্থ্য দেখিয়েছেন। লাল বলের ক্রিকেটে মিরাজ ও তাইজুলের স্পিন জুটি আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আবুধাবির উইকেটে ম্যাচ যত এগোবে, স্পিনারদের ভূমিকা তত বাড়ার সম্ভাবনাও থাকবে। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে প্রথম ইনিংসে বড় রান করা। টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে হলে শুরুটা ভালো করতে হবে শাদমান–তানজিদদের। এরপর শান্ত, মোমিনুল, মুশফিক ও লিটনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড শক্ত অবস্থানে যেতে পারে। হৃদয় সুযোগ পেলে নিজের দুর্দান্ত প্রথম শ্রেণির ফর্মকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেনে আনার চেষ্টা করবেন।

অন্যদিকে আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে তাদের ধৈর্যশীল ব্যাটিং ও স্পিন। রহমত শাহ ও হাশমতউল্লাহ শহীদিকে দীর্ঘ সময় উইকেটে রেখে বাংলাদেশকে চাপে ফেলার চেষ্টা করবে তারা। টেস্ট ক্রিকেটে আফগানিস্তান এখনো বাংলাদেশের মতো দীর্ঘ অভিজ্ঞ দল নয়, কিন্তু গত কয়েক বছরে তারা এই সংস্করণে নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে।

সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পক্ষে থাকলেও ম্যাচের আগে পরিষ্কার কোনো নিশ্চয়তা নেই। দুই দলের টেস্ট লড়াইয়ের ইতিহাস ১–১ সমতায়। তাই এবার আবুধাবিতে নতুন গল্প লেখার অপেক্ষায় থাকবে দু’দলই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবলিউড অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন
পরবর্তী নিবন্ধডাকপিয়নের অপেক্ষা এখন শুধুই স্মৃতি