অবশেষে আঁধার কেটে আলোর মুখ দেখতে চলেছে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা (সিজেকেএস)এর বহুকাঙ্ক্ষিত নির্বাচন। ২০২৪ সালের আগষ্ট পরবর্তী সময়ের প্রেক্ষাপটে সিজেকেএস কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়। সে থেকে এ পর্যন্ত একটি নির্বাচনের আশায় থেকেছে এখানকার ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সবাই। নিবাচনকে কেন্দ্র করে হয়েছে অনেক জল্পনা–কল্পনা, আলোচনা–সমালোচনা। সে সবের অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) অ্যাডহক কমিটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছে। গতকাল শনিবার দুপুরে সিজেকেএস কন্ফারেন্স রুমে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় নির্বাচনের গতিপথ তুলে ধরেন সিজেকেএস অ্যাডহক কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নির্দেশনা অনুযায়ী নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে অ্যাডহক কমিটি। তবে এখানে কিছুর বাস্তবতার বিষয় আছে। ২৭ নভেম্বর কমিটিকে ডেডলাইন দেয়া হয়েছিল নির্বাচন অনুষ্ঠানের। কিন্তু এই বেঁধে সময়ে নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যাবে না। এটি শেষ হতে আরো কিছু সময় লেগে যাবে। সদস্য সচিব জানান, আগামী সপ্তাহে সিজেকেএস সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ দিন সময় দিয়ে কাউন্সিলর মনোনয়নের প্রক্রিয়া শেষ করার সুযোগ দেওয়া হবে। ক্লাবগুলোর মনোনীত কাউন্সিলরদের তালিকা অ্যাডহক কমিটির সভায় যাচাই–বাছাই ও অনুমোদনের পর সাধারণ পরিষদ গঠন করা হবে। এরপর অনুমোদিত কাউন্সিলরদের তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করবে। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেবে। কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর ২১ থেকে ৩১ দিনের মধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। মত বিনিময় সভায় জানানো হয়, সিজেকেএসের অনুমোদিত ৮০টি ক্লাবের মধ্যে নিয়মিত কার্যক্রমে না থাকায় তিনটি ক্লাব চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেড, আমিন জুট মিল ও হাফিজ জুট মিলকে আপাতত কাউন্সিলর মনোনয়ন প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে। বাকি ৭৭টি ক্লাবের প্রতিনিধি বা কাউন্সিলর হিসেবের আওতায় আসবেন। নির্বাচন আয়োজনে বিলম্বের কারণ হিসেবে সিজেকেএস সদস্য সচিব জানান, কয়েকটি ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ ও অভ্যন্তরীণ কমিটি নিয়ে জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ব্লুজ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র (লাল), চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (গ্রীন), গোসাইডাঙ্গা যুবক গোষ্ঠী, স্টার ক্লাব, মাদারবাড়ী মুক্তকণ্ঠ ক্লাব ও আগ্রাবাদ কমরেড ক্লাবের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং হচ্ছে। এদের কাউন্সিলর মনোনয়ন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সদস্য সচিব আশাবাদী আলোচনার মাধ্যমে তারা সমাধানের পথ খুঁজে নেবেন। একান্তই পারা না গেলে উর্ধ্বতন মহলের কাছে সমাধান খুঁজবেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রমের ১৫টি উপজেলার মধ্যে ১১টি উপজেলার কমিটি সংক্রন্ত তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি চারটি উপজেলা যেমন রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ড, বাঁশখালী ও সন্দ্বীপের কাছ থেকে তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গত ৩০ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন প্রদান করে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ৩ জুন অ্যাডহক কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সভায় সিজেকেএস কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন ২০২৬ আয়োজনের জন্য সাধারণ পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রেরণের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৩ জুন পত্র প্রেরণ করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ দ্বিতীয়বারের মতো বৃদ্ধি করা হয়। এরপর গত ২৪ সেপ্টেম্বর অ্যাডহক কমিটির সভায় সাধারণ পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে ক্লাবদেরকে প্রতিনিধি প্রেরণ করতে বলার সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থায় নির্বাচিত নেতৃত্ব না থাকায় চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। জেলার ক্রীড়াঙ্গনে অস্বাভাবিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন সম্পন্ন হলে সিজেকেএস নির্বাচিত নেতৃত্বের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে গতির সৃষ্টি হবে বলে আশা করেন ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা। গতকালের মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সিজেকেএস অ্যাডহক কমিটির সদস্য, জেলা ক্রীড়া অফিসার মোহাম্মদ আবদুল বারী, সিজেকেএস প্রশাসনিক কর্মকর্তা সৈয়দ সারোয়ার আলম এবং সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমির হোসেন।











