ঘুষের ৬ হাজার টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বাখরাবাদ গ্যাসের এক কর্মকর্তা। ওই ঘটনায় মামলা দায়ের ও চার্জশিট দাখিলের পর বিচার শুরু হয়। তবে কেবল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হতেই পেরিয়ে গেছে ৬ হাজার ৯ দিন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ৪ অক্টোবর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেও মামলাটির বিচার এখনো শেষ হয়নি। সামনে রয়েছে আসামির পরীক্ষা, যুক্তিতর্ক ও রায় ঘোষণার দীর্ঘ প্রক্রিয়া। মাত্র ছয় হাজার টাকার একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করতে ৬ হাজার দিনের বেশি লেগে যাওয়ায় এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১২ নভেম্বর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. এর (বিক্রি দক্ষিণ শাখা, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম) তৎকালীন সহকারী ব্যবস্থাপক সৈয়দ সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ৬ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–২ এর পক্ষ থেকে একটি ফাঁদ মামলা (অভিযান) পরিচালিত হয়েছিল। দুদক টিমের হাতে সেদিন তিনি হাতেনাতে আটক হয়েছিলেন।
এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারে বলা হয়, ৪৮টি আবাসিক গ্যাস সংযোগের টেস্ট রিপোর্ট (কার্য সমাপ্তি প্রতিবেদন) প্রদানের বিনিময়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ঠিকাদার মেসার্স তাইবা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আওরঙ্গজেব বাবুলের কাছ থেকে এই ঘুষ দাবি ও গ্রহণ করা হয়েছিল। সরকারি পদে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যহার করে তিনি উক্ত ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন, যা দণ্ডবিধি ও সেই সাথে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
আদালত সূত্র জানায়, ঘটনার পরের বছর ২০০৯ সালের ২৭ মে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর ২০১০ সালের ২৩ মে আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক। সেই সাথে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়।
আদালত সূত্র আরও জানায়, মামলায় মোট সাক্ষী ছিলেন ২০ জন। এই বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে দীর্ঘ বিরতি ও নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য রেকর্ড করা সম্ভব হয়। বিচার শুরুর পর থেকে ৬ হাজার ৯ দিন পেরিয়ে ৪ অক্টোবর সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। তবে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলেও মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হতে আরও কিছু ধাপ বাকি রয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামির পরীক্ষা, এরপর যুক্তিতর্ক শুনানি এবং সব শেষে আদালত কর্তৃক রায় ঘোষণার মাধ্যমে মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে। আজ রোববার ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামির পরীক্ষার জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহিদুল করিম জানান, তিনি সম্প্রতি মামলাটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষিত হয়েছে। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ৩৪২ ধারার কার্যক্রম ও যুক্তিতর্ক শুনানি সম্পন্ন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলাটির রায় ঘোষিত হবে। এখন সেটিই আমাদের প্রধান প্রত্যাশা।
দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম ঝুলে থাকার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমি পালন করছি। এর আগে কেন নির্ধারিত সময়ে সাক্ষীদের আদালতে হাজির করে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করা গেল না, সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।












