যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়া চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে হোয়াইট হাউজে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় ট্রাম্প বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে তিনি ‘গর্বিত’। শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকও চমৎকার হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি। ওদিকে, শি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং দেশটিতে চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। খবর বিডিনিউজের।
গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে করমর্দন, উষ্ণ শুভেচ্ছা এবং রোজ গার্ডেনে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে স্বাগত জানানো হয় হোয়াইট হাউজে। শি এবং ডনাল্ড ট্রাম্পের সেখানেই ওভাল অফিসে বৈঠকে করার কথা ছিল। বৈঠকে নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনায় হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, আজ এসব ক্ষেত্রে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আগামী কয়েক দশক ধরে শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনতে পারে।
বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন একসঙ্গে কাজ করে নিজেদের সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে অনেক বড় সাফল্য অর্জন করেছে। আমাদের দুটি দেশ আসলে একই কাজ করে এবং আমরা এ নিয়ে এবং আমাদের সম্পর্ক নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত, বলেন ট্রাম্প।
ওদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি বলেন, দুই দেশেরই উচিত সম্পর্ক জোরদার করা। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আলাদা দেশ, তবে তাদের নিবিড়ভাবে জড়িত স্বার্থ রয়েছে এবং তারা পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তুলতে পারে। একসঙ্গে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা বিশ্বের প্রতিটি সমস্যা সমাধান নাও করতে পারে, তবে এটি ছাড়া বিশ্বের অনেক সমস্যার সমাধান করাই কঠিন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীতে অভিনন্দন জানান চীনা প্রেসিডেন্ট। তিনি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একে অপরকে সম্মান করেন এবং যোগাযোগ বজায় রাখেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং হোয়াইট হাউজে বক্তব্য রাখার সময় বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচির আওতায় এক লাখ তরুণ মার্কিনিকে তারা চীন সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং একসঙ্গে একটি আরও উন্নত বিশ্ব গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি। লাল গালিচা, সামরিক ব্যান্ড, পতাকা, আকাশে বিমানের মহড়া এবং জমকালো রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজনে চীনের প্রেসিডেন্টের এই সফর অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ হয়েছে। তবে এই ধুমধাম বা ব্যাপক প্রচারের পরও দুই দেশের মধ্যকার প্রধান প্রধান সমস্যা বা উত্তেজনা দূর করার ক্ষেত্রে এই সফর বড় কোনও ভূমিকা রাখবে, তেমন প্রত্যাশা নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।













