প্রতিদিনের ন্যায় সন্ধ্যাকালীন আড্ডায় ছিলাম আমরা বয়স্ক কয়েকজন। আড্ডায় কত কথা কত আলোচনা হয়। দুই চারজন সমমনা এক সঙ্গে বসলে যা হয় আর কি। মোবাইল দেখতে দেখতে হঠাৎ একজনের চোখ পড়লো বাবা দিবস। ২১ জুন বাবা দিবস গেল। একজন বললো ঢাকা থেকে আমার ছেলে আমাকে স্মরণ করে ম্যাসেজ করেছে। অন্যজন বললো বিদেশ থেকে আমার মেয়ে হওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অনেক কিছু বললো। অন্যজন বললো আমার ছেলে আমার সুস্থতা কামনা করেছে। সবাই কিছু না কিছু বলেছে। আরেক জন চুপ করে মুখটা একটু ফ্যাকাসে করে রইল। আমাদের থেকে একজন জিজ্ঞেস করলো, আজ বিশেষ দিনে তোমার সন্তানেরা খোঁজ খবর নিলো কি? নীরবতা ভেঙে উত্তর দিলো, সবই কপাল এত কষ্ট করে মানুষ করলাম। শিক্ষিত করলাম। ভালো ঘর দেখে বিয়ে করালাম এবং মেয়েকে উপযুক্ত স্বামী দেখে বিয়ে দিলাম। আমার সমস্ত অর্থ তাদের পিছনে খরচ করলাম। কিন্তু শেষ বয়সে এসে কেউ আমাদের খোঁজ খবর নেয় না। বাবা দিবসত বছরে একবার আসে। আমরা কেমন আছি কখন জানতেও চায় না! সম্ভবত আমার শিক্ষা স্নেহ ভালোবাসার কমতি ছিল। তার চোখ দিয়ে ছল ছল পানি গড়িয়ে পড়লো এবং ভারাক্রান্ত মন দেখে হঠাৎ আড্ডায় আনন্দটাই বেদনায় ভরে উঠলো। ভাষা হারিয়ে ফেললাম সকলে। বন্ধুত্বের জায়গা থেকে সকলে মিলে যতটুটু শান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলাম। শান্ত্বনা দিতে গিয়ে তার বুকের ভিতর এতদিনের জমে থাকা না বলা আবেগটা আরো প্রকটভাবে ভেসে উঠলো এবং প্রচণ্ড কান্নায় ভেঙে পড়লো। মা বাবার লেখা পড়ার জ্ঞান কম থাকতেই পারে। কিন্তু তাদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। ক্ষুদ্র জ্ঞানে কষ্টের অর্জিত টাকা দিয়ে সন্তানদের বড় করেছে, শিক্ষিত করেছে এর প্রতিদান কি সন্তানেরা এইভাবে দিতে পারে! ইদানীং চারপাশে প্রায় এই অমানবিক ঘটনাগুলো আমরা দেখছি। এই আধুনিকায়ন যুগে সঠিক জ্ঞানে জ্ঞানী না হয়ে সার্টিফিকেট শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মা বাবা বড়জনদের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান, কর্তব্য পালন থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছে অবাধ্য হচ্ছে কিছু প্রজন্ম। এটা এখন মহামারি রূপ নিয়েছে। এর জন্য সমাজ বা দেশ এক অন্ধকারের দিকে নিমজ্জিত হচ্ছে। একে অপরের প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য সম্পর্ক স্নেহ ভালোবাসা মানবিকতা সব যেন সমাজ বা দেশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনগুলো আমাদের জন্য মঙ্গলজনক নয়। মানবতা ও নৈতিকতা যেন সকলের কাছে ফিরে আসে।











