জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের প্রাথমিক শিক্ষা কারিকুলাম ও ‘আমার বাংলা বই’–তে শিক্ষার্থীদের বয়সের কথা বিবেচনা করে আনন্দের মাধ্যমে পঠন–পাঠন নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। এই স্তরের পাঠ্যপুস্তকে শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে কবিতা ও ছড়া অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রাথমিক স্তরের (বিশেষ করে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণি) বাংলা পাঠ্যবইয়ে পঠিত কবিতা বা ছড়ার রচয়িতাদের পরিচিতি নেই বললেই চলে। আমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে এইটুকু উপলব্ধি করতে পারি যে, শিশুদের কবিতা পঠনের সঙ্গে সঙ্গে কবির জীবন পরিচিতির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা অবশ্যই জানা প্রয়োজন। ছোটবেলায় আমরা কবিতা পঠনের সাথে সাথে পড়তাম কবি পরিচিতি। সেই কবি পরিচিতি আজও আমাদের অন্তরের মনিকোঠায় বেঁধে রয়েছে। তাছাড়া বিশেষ কিছু কবির জন্মপরিচয়, উল্লেখযোগ্য কাব্য, পুরস্কার প্রাপ্তির বিবরণ, মৃত্যুসন এইসব জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি যখন কবিতা পড়াতে যাই তখন কবি পরিচিতি খুঁজি। আমি সেই কবি সম্পর্কে যতটুকু জানি শিক্ষার্থীদের সেটুকু জানানোর চেষ্টা করি। তবে সে জানাটুকু তাদের জন্য সীমিত থাকে। পাঠ্য বইয়ে যদি এই কবি পরিচিতি থাকে তবে শিশুদের কবিতায় যেমন মনোনিবেশ ঘটানো যায় ঠিক তেমনি জানাতে পারি একজন কবির সামগ্রিক বিষয়টুকু। আমি আমার ধারণা থেকে বলছি কবিতা মানেই আনন্দ। আর যিনি এই আনন্দ শিশুদের মাঝে ছড়িয়ে দেন তাঁর সম্পর্কে না জানলে কবিতার কোন সার্থকতা থাকে না। আমি আশা করবো আগামী পাঠ্যপুস্তক প্রণয়নের সময় যেন কবিতায় কবি পরিচিতি তুলে ধরা হয়। এতে শিক্ষার্থী যেমন উপকৃত হবে ঠিক তেমনি শিক্ষকেরও জানার পরিধি ব্যাপক হবে। বিষয়টি আমাদের সকলের ভেবে দেখা উচিত। পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট আকুল আবেদন আপনারা আগামীর পাঠ্যপুস্তকে এই বিষয়টি দেখবেন বলে আশা করছি।










