জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, উৎসব যার যার, রাষ্ট্র সবার। দেশের প্রতিটি নাগরিক ও সমপ্রদায়ের মানুষ নিরাপদে বসবাস করছেন এবং নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন–এই বার্তা বিশ্বকে জানাতে চাই। শারদীয় দুর্গোৎসবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চাই। একই সঙ্গে দুর্গোৎসব ঘিরে গুজব, অপপ্রচার ও সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ছোট কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি গোষ্ঠী উৎসবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারে। সে বিষয়েও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে পূজা মণ্ডপসমূহের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ে গতকাল সোমবার সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সৈয়দ মাহবুবুল হকসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি, আনসার কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা বিশ্বের কাছে দেখাতে চাই, এই দেশের প্রতিটি নাগরিক, প্রতিটি সমপ্রদায়, প্রতিটি জাতিগোষ্ঠী নিরাপদ। তারা নিরাপদে বসবাস করে, নিরাপদে তাদের উৎসব পালন করে। দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে ছোট কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
গুজব ও অপপ্রচারকে দুর্গোৎসবের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ছোট কোনো ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরঞ্জিত করে প্রচারের চেষ্টা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পূজা উদ্যাপন পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোকে দ্রুত সত্য তথ্য তুলে ধরতে হবে। গুজব ও অপতথ্য শনাক্তে সাইবার ইউনিট কাজ করবে।
পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা রাখার পরামর্শ দেন জেলা প্রশাসক। স্বেচ্ছাসেবকদের রোস্টার করে দায়িত্ব দেওয়া এবং তাদের সহজে শনাক্ত করতে আলাদা পোশাক, কটি বা আর্মব্যান্ড ব্যবহারের কথাও বলেন তিনি। প্রতিমা তৈরি ও পরিবহন থেকে বিসর্জন পর্যন্ত– প্রতিটি পর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। সম্ভব হলে দিনের আলোয় প্রতিমা মণ্ডপে আনা এবং সূর্যাস্তের আগেই বিসর্জন শেষ করার পরামর্শ দেন তিনি।
বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের কথা জানানো হয় সভায়। বিসর্জনে ব্যবহৃত যানবাহনের ফিটনেস এবং চালকের শারীরিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার তাগিদও দেওয়া হয়।
সভায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, মহানগরের বাইরে চট্টগ্রাম জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ২ হাজার ২৮৭টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০টি মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে পুলিশ সুপার বলেন, এ ধরনের তৎপরতা সহ্য করা হবে না এবং নজরদারি থাকবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।











