নগরীর দক্ষিণ কাট্টলীর ঐতিহ্যবাহী রাণী রাসমণি ঘাটে সার্বজনীন মহাতীর্থ বারুণী স্নান পরিচালনা পরিষদের উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাণী রাসমণি ঘাটে এই পুণ্যস্নানে অংশ নেন হাজার হাজার সনাতনী ভক্তবৃন্দ। এই দিনে নিজের ভালোর জন্য ও প্রয়াত স্বজনদের আত্মার শান্তির জন্য নির্দিষ্ট করা স্থানে স্নান করতে একত্র হন তাঁরা। এই উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল–গঙ্গা আহবান, গঙ্গা পূজা, বৈষ্ণবসেবা, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, ঋষি সমাবেশ, ধর্মসম্মেলন ও মহাপ্রসাদ আস্বাদন। ঋষি সমাবেশে অংশ নেন দূর–দূরান্ত থেকে আসা ঋষি, মহারাজ, বৈষ্ণব, সাধু–সন্নাসীরা।
ধর্মসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সকল ধর্মের সম্প্রীতি ও দেশপ্রেমেই আজকের বাংলাদেশ। যার যার ধর্ম পালনের মাধ্যমে নিজের আত্মশুদ্ধি আসে। বন্দরনগরীর সৌন্দর্য্যবর্ধনে সকলকে সহযোগিতা করতে হবে।
মহান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেছেন, ধর্মচর্চা মানুষের মনুষ্যত্ববোধকে জাগ্রত করে। সমাজে সকল অশান্তির মূলে রয়েছে ধর্মচর্চা থেকে দূরে থাকা। মহাতীর্থ বারুণী স্নান পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সদানন্দ ভট্টাচার্য্যের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল কান্তি নাথের সঞ্চালনায় ধর্মসম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ–কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন–জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাড. চন্দন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আর কে দাশ রুপু, কার্যকরি সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব পার্থ, সৎসঙ্গের সাধারণ সম্পাদক সুমন ঘোষ বাদশা, আনন্দময়ী কালী মন্দির পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজন দাশ।
আনোয়ারা : আনোয়ারা প্রতিনিধি জানান, সরওয়ার জামাল নিজাম বলেছেন, বিএনপি সামপ্রদায়িক সমপ্রীতিতে বিশ্বাসী। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু–সংখ্যাগুরু বলে কিছু নেই। গতকাল মঙ্গলবার আনোয়ারা পারকি সমুদ্র সৈকতে মহাতীর্থ বারুণী স্নান উৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে মহাতীর্থ বারুণী স্নান উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উদযাপন পরিষদের সভাপতি আশীষ কান্তি চৌধুরীর সভাপতিত্বে পরিষদের সম্পাদক ডা. সবুজ কান্তি দেব ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সম্পাদক মাস্টার রতন কান্তি শীলের যৌথ সঞ্চালনায় উদ্বোধক ছিলেন ডা. উজ্জ্বল মিত্র। অতিথি ছিলেন, রণধীর দত্ত, অশোক কুমার শীল, অ্যাড. যতীন্দ্র মোহন চৌধুরী, সংবর্ধিত অতিথ লায়ন সুজিত কুমার দাশ, দোদুল কুমার দত্ত, সদীপ দেবনাথ, রবীন্দ্র দেবনাথ, মাস্টার নারায়ণ বরণ সরকার, শফিউল আলম জাকারিয়া চৌধুরী জকু, আব্দুল গফুর, আখতারুন্নবী চৌধুরী, ইলিয়াস করিম ইলু, পরিমল দত্ত প্রমুখ।

মন্দাকিনী মহাতীর্থ পরিচালনা পরিষদ : হাটহাজারী প্রতিনিধি জানান, সরোয়ার আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী আন্দোলন, সংগ্রাম, অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার পর অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের মাধ্যমে দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়েছে। তিনি গতকাল মঙ্গলবার মন্দাকিনী মহাতীর্থ পরিচালনা পরিষদ মন্দাকিনী মেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্দাকিনী মেলার মন্দির চত্বরে সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্দাকিনী মহাতীর্থ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. গোবিন্দ প্রসাদ মহাজন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংবাদিক কেশব কুমার বড়ুয়া, জন্মাষ্টমী পরিষদের জেলা ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে লায়ন শিক্ষক অশোক কুমার নাথ, জুয়েল চক্রবর্তী, উজ্জ্বল দত্ত প্রমুখ। মন্দাকিনী মহাতীর্থ পরিচালনা পরিষদের কর্মকর্তা ডা. জয়টি শীল ও ছোটন দাশের যৌথ সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন, পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পাঁচকড়ি শীল।

দক্ষিণ রাউজান গঙ্গা মন্দির : রাউজান প্রতিনিধি জানান, দক্ষিণ রাউজানের গঙ্গা মন্দির এলাকায় বারুণীর স্নানে শত শত নারী পুরুষ অংশ নিয়েছে। গঙ্গা মন্দির ও মগদ্ধেশ্বরী মন্দির কমিটি যৌথভাবে এই কর্মসুচির আয়োজন করে। বারুণীস্নান উপলক্ষে তিন দিনের এই কর্মসুচি শুরু হয় গত ১৬ মার্চ। শেষ হবে আজ। তিন দিনের কর্মসূচিতে রয়েছে–ধর্মসভা, গঙ্গা পূজা, মাতৃপূজা, নামযজ্ঞ মহাপ্রসাদ বিতরণ। দুলাল বৈদ্যের সভাপতিত্বে ও লিটন মহাজনের সঞ্চালনায় ধর্মসভায় বক্তব্য দেন, সাগর সেন, দোলন ঘোষ, সুজিত দাশ, দেবাশীষ চক্রবর্তী, অঞ্জন বিশ্বাস, টিটু তালুকদার, সমীর চন্দ্র দে, রিটন মহাজন, আশীষ দাশ, চম্পা দে, সঞ্চিতা মল্লিক প্রমুখ।
বাঁশখালী : বাঁশখালী প্রতিনিধি জানান, বাঁশখালীর সরল, বাহারছড়া, খানখানাবাদ, গন্ডামারা সমুদ্র সৈকতে বারুণী স্নান করতে ভক্তদের ঢল নামে। ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সমুদ্রের জলে পূণ্যস্নান ও পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করেন।














