বাংলাদেশের জয় কেড়ে নিল আফগানিস্তান

ক্যাচ ও রানআউটের সুযোগ নষ্ট,আবুধাবি টেস্ট ড্র

ক্রীড়া প্রতিবেদক | বুধবার , ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ

জয়ের সুবাস পেতে থাকা বাংলাদেশকে হতাশায় পুড়িয়ে আবুধাবি টেস্ট ড্র করে ফেলেছে আফগানিস্তান। তবে এই ড্র আফগানিস্তানের জন্য জয়ের মতোই, বাংলাদেশের জন্য যা একরকম পরাজয়। আবুধাবি টেস্টের শেষ দিনে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং বীরত্বে ড্র আদায় করে নেয় আফগানরা। ৪৭৯ রানের লক্ষ্য ধরা–ছোঁয়ার বাইরে থাকলেও গোটা শেষ দিন লড়াই করে চতুর্থ ইনিংসে ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে ম্যাচ শেষ করেছে তারা।

ম্যারাথন ব্যাটিংয়ে স্মরণীয় এক সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন সেদিকউল্লাহ আটাল। ৫১৪ মিনিট ব্যাটিং করে ৩৩২ বলে করেছেন ১১১ রান। শেষ সেশনে তার বিদায়ের পরও ম্যাচে বাকি ছিল ২৩ ওভারের বেশি। বাংলাদেশের জয়ই তখন সবচেয়ে সম্ভাব্য ফল বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু লোয়ার অর্ডারে ইয়ামিন আহমাদজাই, কাইস আহমাদ ও জিয়া–উর–রহমানের বীরত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ে ম্যাচ বাঁচায় আফগানিস্তান।

জায়েদ স্টেডিয়ামের উইকেটে শেষ দিনেও ছিল না প্রাণের ছোঁয়া। বোলারদের জন্য তেমন কোনো সহায়তা ছিল না। তবে জিততে না পারার দায় বাংলাদেশের বোলার ও ফিল্ডারদেরও নিতে হবে। বোলিংয়ে ধার ছিল না তেমন। আটালের বিদায়ের পর একের পর এক সুযোগ এসেছে। কিন্তু ক্যাচ পড়েছে, পরপর সহজ রান আউটের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। বল স্টাম্পে লাগলেও বেলস পড়েনি, আবার দফায় দফায় অল্পের জন্য ক্যাচ নেওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত তাই হতাশাই সঙ্গী হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। তবে সবকিছু ছাপিয়ে আফগানদের কৃতিত্বই সবচেয়ে বেশি।

৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে দিন শুরু করে আফগানিস্তান। ফিল্ডারের থ্রোয়ে চোট পেয়ে দিনের তৃতীয় ওভারেই ক্রিজ ছেড়ে যান হাশমাতউল্লাহ শাহিদি। তাতে বিচলিত না হয়ে লড়াই চালিয়ে যান আটাল ও ইকরাম আলিখিল। বলের পর বল ছেড়ে দিয়ে কিংবা ঠেকিয়ে উইকেটে পড়ে থাকেন দুজন। আটাল প্রথম টেস্ট ফিফটিতে পা রাখেন ১৬৬ বলে। ফিফটির পর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে তাইজুলকে দুটি ছক্কা মারেন তিনি ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে। এরকমই আরেকটি শটের চেষ্টায় বড় এক সুযোগ দেন তিনি। কিন্তু ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত কিপিং করা লিটন এবার ব্যর্থ হন সহজ স্টাম্পিংয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে।

লাঞ্চের কয়েক মিনিট আগে এই জুটি ভাঙেন ইবাদত হোসেন চৌধুরি। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন বাংলাদেশের কিপার লিটন। জুটি থামে ১৪৭ বলে ৬৬ রানে। একই রকম প্রতিরোধ গড়ে ওঠে পরের জুটিতেও। রান করা নামক ব্যাপারটি পুরোপুরি ভুলে গিয়ে মাথা নিচু করে উইকেট আঁকড়ে রাখেন ইসমাত আলম। প্রথম রানের দেখা পান তিনি ৪৫ বল খেলে। আরেক প্রান্তে রক্ষণের পাশাপাশি আলগা বল পেলে কাজে লাগান আটাল।

দ্বিতীয় নতুন বলেও বাংলাদেশ পারেনি জুটিতে ফাটল ধরাতে। হাসানের বলে বাউন্ডারি মেরে আটাল শতরানে পৌঁছে যান ২৭৭ বলে। শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ইসমাতের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে লিটনের পায়ে লেগে উঠে যাওয়া বল মুঠোবন্দি করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। আফগান লড়াই থামেনি সেখানেও। চোট পাওয়া শাহিদি ফেরেন ব্যাটিংয়ে। আরেকটি জুটি গড়ে ওঠার আভাস মেলে। তবে প্রথম সেশনের মতো দ্বিতীয় সেশনেও উইকেট ধরা দেয় বিরতির একটু আগে। শাহিদি ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে মিরাজকে তুলে মারার চেষ্টায় ধরা পড়েন মিড অনে।

সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত উইকেট ধরা দেয় চা বিরতির পর। তাইজুল ইসলাম পেয়ে যান বড় উইকেটটিই। শর্ট লেগে ধরা পড়েন আটাল। বাংলাদেশের উল্লাস দেখে মনে হচ্ছিটা তখন তারা সময়ের ব্যাপারই মনে করছিলেন। উইকেট বাকি তখন আর কেবল তিনটি। কিন্তু লড়াইয়ের শেষ অধ্যায় ছিল অন্যরকম। পেসার আহমাদজাই হয়ে ওঠেন যেন পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান। কাইস ক্রিজে গিয়ে পাল্টা আক্রমণে বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ শট খেললেও টিকে যান। চাপের মধ্যে ভেঙে পড়ে বাংলাদেশও। পরপর দুই বলে রান আউটের সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয়। মিরাজের বলে কাইসের ক্যাচ ছাড়েন হাসান মাহমুদ। অষ্টম উইকেট জুটি খেলে ফেলে একশর বেশি বল।

একদম শেষ বেলায় অবশ্য নাটক জমে ওঠে বেশ। আহমাদজাইয়ের ৮৫ বলে বীরত্বপূর্ণ লড়াই শেষ হয় মিরাজের বলে শর্ট লেগে ক্যাচ দিয়ে। ম্যাচে তখনও বাকি পাঁচ ওভার। কিন্তু আর কোনো উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ সময়ে পায়ে ক্র্যাম্প করায় মাঠেই চিকিৎসা নেন কাইস। মাঠের ভেতরে আর বাইরে সবার হাসিমুখই বলে দিচ্ছিল, সেই ক্র্যাম্প আসলে সময়ক্ষেপণের কৌশল। আফগানদের সব কৌশলই কাজে লেগে যায়। শেষ ওভারে তাইজুলকে দুটি ছক্কা মেরে অবিস্মরণীয় ম্যাচের শেষটাও দারুণভাবে করেন কাইস। ম্যাচ অব দ্যা ম্যাচ বাংলাদেশের লিটন কুমার দাস।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিলম্বে পরীক্ষায় উপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে শিক্ষকের মুখে আঘাত
পরবর্তী নিবন্ধপাথর নিক্ষেপকারী শনাক্তে ট্রেনে সিসিটিভি