ফটিকছড়ি উপজেলায় শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে ঘটা করে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই সভার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ফটিকছড়ি উপজেলার মাইজভাণ্ডার দরবার সংলগ্ন সড়কের পাশে ‘ডেকসি ঘর’ নামে একটি রেস্ট হাউসে এই সভার আয়োজন করা হয়। রেস্ট হাউসটির মালিক সাবেক চসিক মেয়র মনজুর আলম। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও ওয়ার্ড পর্যায় থেকে আসা শতাধিক ছাত্রলীগ নেতাকর্মী সশরীরে অংশগ্রহণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানস্থলের মূল মঞ্চের পেছনে ‘উপজেলা ছাত্রলীগের তৃণমূল ও কারা নির্যাতিত নেতাদের নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা’ লিখিত একটি ব্যানার টাঙানো রয়েছে। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন নেতাকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। উপস্থিত নেতাকর্মীরা সকল প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকার এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সভা শেষে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সভার ছবি পোস্ট করেন।
এদিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের এমন প্রকাশ্য কর্মসূচি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে এবং সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সেদিন রাতেই ওই এলাকায় শতাধিক বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়ি থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. জামাল হোসেন বাদী হয়ে ২৯ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামিরা হলেন মো. জামান বাবু, সাইফুল ইসলাম সজিব, সাবেক চসিক মেয়র মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু, সাবেক এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনি, বখতিয়ার সাঈদ ইরান, সাবরিনা চৌধুরী, রেজাউল করিম, মো. মামুন, মহিউদ্দিন, জিদান আহমেদ, জসিম উদ্দিন মুহুরী, মো. রিয়াজ, ইফতাকার আলম মুন্না, মো. রনি, মো. হাসান, মিনহাজ, মুরাদ, মো. রুবেল, সাকিব, ফাহিম, রাশেদুল করিম রাসু, সাইফুল ইসলাম টিটু, মুহাম্মদ রাহুল, মোহাম্মদ ইরফান, মো. ফয়েজ, ইমতিয়াজ, মো. রাসেল, ফোরকান উদ্দিন বাপ্পু, মো. জসিম ও অজ্ঞাতনামা ৮০/৯০ জন।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে। কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং বৈঠকের উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ওসি আরও জানান, ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে থানায় আনার পর তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৯ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধনী/২০১৩) এর ৯/১০/১১/১২ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে মামলার ১,২ ও ১৬ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পরদিন গতকাল শুক্রবার সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরোয়ার আলমগীর (বেসরকারিভাবে নির্বাচিত এমপি) বলেছেন, নিষিদ্ধ সংগঠন যে কাজটি করেছে তা পুরো দেশে বিরল। এর জন্য আমাকে কেন্দ্রের কাছে বহু জবাবদিহি করতে হয়েছে। এর সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন কিছু আবার ঘটলে প্রশাসনকে এর দায়ভার নিতে হবে।












