প্রতিদিন বিশ রাকায়াত তারাবিহ্‌র নামাজ আদায় করতে হবে

আ ব ম খোরশিদ আলম খান | বুধবার , ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

মাহে রমজানের বিশেষ ফজিলতপূর্ণ নামাজ তারাবিহ্‌র নামাজ। প্রতি রাতেই এশার নামাজের সঙ্গে বিশ রাকায়াত তারাবিহ্‌র নামাজ আদায় করতে হয়। তারাবিহ্‌র নামাজ সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ তথা অবশ্য পালনীয় সুন্নাত। ইসলামের প্রারম্ভকাল থেকেই তারাবিহ্‌র নামাজের বিধান চালু হয়েছে। তবে বিধিবদ্ধ নিয়মে জামাআতের সঙ্গে বিশ রাকায়াত তারাবিহ্‌র নামাজের নিয়ম চালু করেছেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা আমিরুল মুমেনিন হযরত ওমর (রাদ্বি.)। সহিহ হাদিস, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন, তবে তাবেয়ীনের আমল এবং উম্মতের সর্বসম্মত ইজমা বা ঐকমত্য থেকে এটাই প্রমাণিত হয় যে, তারাবিহ্‌র নামাজ বিশ রাকায়াত। তা প্রাপ্তবয়স্ক নারীপুরুষ সবার জন্য সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। জামাআতের সঙ্গে তারাবিহ্‌র নামাজ আদায় করা সুন্নাত। তবে জামাআতে পড়ার সুযোগ না থাকলে তারাবিহ্‌র নামাজ একাকীও আদায় করা যায়। প্রিয় নবী (.) ইরশাদ করেছেন ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসে রাত জাগরণ করে তারাবিহ্‌র নামাজ পড়ে, তার অতীতের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম শরিফ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৫৯)। তারাবিহ্‌র নামাজের রাকায়াতের সংখ্যা নিয়ে কেউ কেউ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বলা হচ্ছে ‘তারাবিহ্‌র নামাজ’ বিশ রাকায়াত নয় বরং আট রাকায়াত। অথচ এই দাবির পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য দলিলপ্রমাণ নেই। তাই, অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে যুগ যুগ ধরে চলে আসা বিশ রাকায়াত তারাবিহ্‌র নামাজই পড়তে হবে। এই নামাজ সঠিক শুদ্ধ নিয়মে আদায়ে সচেষ্ট হতে হবে। দীর্ঘতর নামাজ, তাই তাড়াহুড়ো করেই পড়ে নেয়া যায়এই ধ্যান ধারণা যেন না আসে। তারাবিহ আরবি শব্দ। বহুবচন হচ্ছে তারবিহাতুন। তারাবিহ শব্দের অর্থই হচ্ছে বিশ্রাম নেয়া, আরাম করা। তারাবিহর অর্থই যেহেতু বিশ্রাম, তাই থেমে থেমে তাড়াহুড়ো না করে এ নামাজ পড়তে হবে। তারাবিহ্‌র নামাজে খতমে কোরআন মজিদ আদায় করা সুন্নাত। পারলে সময় সুযোগ থাকলেই কেবল তারাবিহ্‌র নামাজে কোরআন খতম করা উত্তম। বয়োবৃদ্ধ রোগাক্রান্ত মুসল্লিদের পক্ষে দীর্ঘ সময় সাপেক্ষ তারাবিহ্‌র নামাজে কোরআন খতম করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই, সূরা তারাবিহ্‌র মাধ্যমে তারাবিহ্‌র নামাজ পড়ে নেবেন। খতমে তারাবিহ্‌ আদায়ে তাড়াহুড়ো করা যাবে না, কোরআন মজিদের প্রতিটি শব্দ বাক্য মাখরাজের সঙ্গে সহি শুদ্ধভাবে পড়বেন হাফেজ সাহেবগণ। দীর্ঘ নামাজ, তাই তাড়াহুড়ো করে শেষ করতে গিয়ে সহিহ শুদ্ধভাবে কোরআন তেলাওয়াতে যেন বিঘ্ন না ঘটে সেদিকে সবিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। ৫/৬ দিনে কিংবা ১২/১৪ দিনে নয় বরং সরকারের নির্দেশনা মতো সারা দেশে ২৭তম দিবসে খতমে কোরআন শেষ করার নিয়ম মানা জরুরি। এতে মুসল্লিদের কষ্ট লাঘব হবে। সব মসজিদে একই নিয়ম চালু হলে কেউ জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়তে না পারলেও অন্য মসজিদে খতমে তারাবিহতে শামিল হতে পারবে। রোজার সঙ্গে তারাবিহ্‌র নামাজের সম্পর্ক নিবিড়। প্রতিদিন যেমন রোজা রাখতে হবে, তেমনি প্রতি রাতেই তারাবিহ্‌র নামাজ পড়তে হবে। তবে বিশেষ সঙ্গত কোনো কারণে তারাবিহ্‌র নামাজ পড়তে না পারলেও রোজা আদায় হয়ে যাবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিপিসিকে সাড়ে ৯ লাখ টাকা জরিমানা
পরবর্তী নিবন্ধনতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির